ডিমলা উপজেলা
ডিমলা উপজেলা বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা, যা ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এটি রংপুর বিভাগের আওতাধীন নীলফামারী জেলার ৪টি উপজেলার একটি এবং জেলার সীমান্তবর্তী দুটি উপজেলার একটি উপজেলা। ডিমলা উপজেলার উত্তরে ভারতের কুচবিহার জেলা, পূর্বে হাতিবান্ধা উপজেলা, দক্ষিণে জলঢাকা উপজেলা ও পশ্চিমে ডোমার উপজেলা অবস্থিত। এ উপজেলার পূর্ব দিক দিকে তিস্তা নদী এবং পশ্চিম দিক দিয়ে বুড়ি তিস্তা নদী প্রবাহিত হয়েছে।
ডিমলা | |
---|---|
উপজেলা | |
বাংলাদেশে ডিমলা উপজেলার অবস্থান | |
![]() ![]() ডিমলা | |
স্থানাঙ্ক: ২৬°৭′২৮″ উত্তর ৮৮°৫৫′৪৭″ পূর্ব ![]() | |
দেশ | ![]() |
বিভাগ | রংপুর বিভাগ |
জেলা | নীলফামারী জেলা |
আয়তন | |
• মোট | ৩২৬.৮০ কিমি২ (১২৬.১৮ বর্গমাইল) |
উচ্চতা[1] | ৫৫ মিটার (১৮০ ফুট) |
জনসংখ্যা (২০১১)[2] | |
• মোট | ২,৮৩,৪৩৮ |
• জনঘনত্ব | ৮৭০/কিমি২ (২২০০/বর্গমাইল) |
সাক্ষরতার হার | |
• মোট | ৪২.৮৬% |
সময় অঞ্চল | বিএসটি (ইউটিসি+৬) |
প্রশাসনিক বিভাগের কোড | ৫৫ ৭৩ ১২ |
ওয়েবসাইট | প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট ![]() |
পটভূমি
- আরও দেখুন: নীলফামারী জেলা
অতীত ইতিহাস ও নামকরণ
নামকরণ সম্পর্কে বাস্তবতা হলো-
- ডিমলা মৌজায় তেলস্নাই নামক এটি বিল ছিল।পূর্বে এবিলে দেশী-বিদেশি নানা প্রজাতির বহু অতিথি পাখি আসতো এবং অসংখ্য ডিম দিত। কথিত আছে যে,এসব অতিথি পাখি, হাঁসের ডিম গুলোর দেখতে অাকর্ষণীয় ছিল। দূর-দূরান্ত হতে অনেক সওদাগর আসতো এবং ডিমের বাণিজ্য করতো। এসব অাকর্ষনীয় ডিমের প্রতুলতার কারণে এলাকার নাম চলে এসেছে ডিমলা। ধারণা করা যায়, পাখির ডিম ও তিলস্নাই বিল লোকমুখে >ডিম তিল্লাই> ডিমলাই> ডিমলায়> সর্বশেষ"ডিমলা"নামকরণ হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিলটি সরদারহাট থেকে এক ক্রশ পূর্বদিকে অবস্থিত এলাকাজুড়ে কৃষিজমি লক্ষকরা যায়।অনেকের কাছে তেল্লাই দোলা বা শেষেরপুকুর নামে পরিচিত। দোলা: স্থানীয়রা নিচু কৃষি অাবাদী জমিকে দোলা বলে থাকে।
ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলন
ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলন ডিমলা উপজেলা থেকে সংঘটিত হয়। যার নেতৃত্বে ছিলেন তন্বারায়ন রায়, জামশেদ আলী চাটি প্রমূখ। এক পর্যায়ে আন্দোলনে তন্বারায়ন শহীদ হন। এ উপজেলায় নুরলদীনের সারাজীবন গ্রন্থের নুরলদীনের পদচারনা ছিল এবং তিনি তেভাগা আন্দোলনকে সংগঠিত করেছিলেন। নুরলদীন ডিমলা উপজেলায় তেভাগা আন্দোলনের অনুপ্রেরণা ছিল।
ভূগোল
ডিমলা উপজেলার ভৌগলিক অবস্থান ২৬.১৩° উত্তর ৮৮.৯৩° পূর্ব। নীলফামারী জেলাধীন উত্তর সীমান্তবর্তী একটি অবহেলিত উপজেলা। উপজেলার উত্তরে ভারতের কুচবিহার জেলা, পূর্বে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলা, দক্ষিণে জলঢাকা উপজেলা ও পশ্চিমে ডোমার উপজেলা।
ডিমলা উপজেলার পূর্ব দিক দিয়ে তিস্তা নদী, মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে নাউতারা নদী, পশ্চিম প্রান্তে বুড়ি তিস্তা নদী প্রবাহিত। তিস্তা নদী এ উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নের আংশিক এলাকার উপর দিয়ে প্রবাহিত। দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প ‘তিস্তা সেচ প্রকল্প’ এ উপজেলায় বিদ্যমান। এছাড়া বুড়িতিস্তা নদীতেও একটি ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্প রয়েছে।
_.jpg)
ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদী, কুমলাল-নাউতারা নদী, বুড়িতিস্তা নদী, ও ধুম নদী রয়েছে।
ভূপ্রকৃতি
প্রশাসন
ডিমলা উপজেলা ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ইউনিয়ন সমূহলো; পশ্চিম ছাতনাই, বালাপাড়া, ডিমলা, খগাখড়িবাড়ী, গয়াবাড়ী, নাউতারা, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, টেপাখড়িবাড়ী ও পূর্ব ছাতনাই।
অর্থনীতি
ডিমলা উপজেলার প্রধান অর্থকরী ফসল ভূট্টা, আলু ও মরিচ। এ উপজেলায় ভূট্টার ফলন প্রচুর হয়। এছাড়া মসলা জাতীয় শস্য যেমন আদা, রসুন, মরিচ ও হলুদের ফলনও বেশি হয়। এসব কৃষি পণ্যের উপর ভিত্তি করে এখানে ব্যবসা বাণিজ্য গড়ে উঠেছে। ধান ও বাশ এর উপর ভিত্তি করেও এখানে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে।
- হাটবাজার
আরশাদগঞ্জ বাজার, কালীগঞ্জ বাজার, ঠাকুরগঞ্জ হাট, ডাংগার হাট, বাবুর হাট, খগার হাট, টুনির হাট, শুটি বাড়ীর হাট, রহমানগঞ্জ বাজার, ফুটানির হাট, চাপানীর হাট, শালহাটি হাট, কলোনির হাট, নাউতারার হাট, একতা বাবুপাড়া হাট ও ডালিয়া গোডাউনের হাট।

প্রাকৃতিক সম্পদ
ডিমলা উপজেলার উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ হল নুরি পাথর। এ উপজেলার তিস্তা নদীর পানির তলদেশে এবং কালিগঞ্জ, ছাতনাই কলোনি, ঝাড়সিংহেরশ্বর, কিসামত ছাতনাই, পশ্চিম খড়িবাড়ী, ডালিয়া মৌজার ১৫ - ২০ ফুট মাটির নিচে প্রচুর পরিমাণে নুরি পাথর মজুদ আছে। এ উপজেলার অন্য প্রাকৃতিক সম্পদ হল বালু।
ভাষা
জনসংখ্যার উপাত্ত
- জনসংখ্যা
- মোট ২,৮০,০৭৬ জন
- পুরুষঃ ১,৪২,০৫০ জন
- মহিলাঃ১,৩৮,০২৬ জন
- পরিবারের সংখ্যাঃ ৬২,৯৩৮ টি
- শিক্ষার হারঃ ৪২.৮৬%
- মোট ভোটার সংখ্যাঃ ১,৬৫,০৮৫ জন
- পুরুষঃ ৮২,৫৪৪ জন
- মহিলাঃ ৮২,৫৪১ জন
শিক্ষা
শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্যঃ
- সরকারী প্রাথ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ৭২ টি
- রেজিষ্টার্ড বেসরকারী প্রাথ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ১০৯ টি
- কমিউনিটি প্রাথ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ০৩ টি
- কেজি স্কুলঃ ১৮ টি
- এজিও প্রাথ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ১১০ টি
- মাদ্রাসা ফাজিল / আলিম /দাখিলঃ ২৪
- মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ২৮ টি ( ২ টি সরকরী )
- নিমণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ১৫ টি
- মহাবিদ্যালয়ঃ ০৯ টি (ডিগ্রী-০৩, উচ্চ মাধ্যমিক-০৩, কারিগারি-০৩টি)
উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
- ডিমলা নিজপাড়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসা।
- 'বালাপাড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়
- ডিমলা ইসলামিয়া ডিগ্রী কলেজ
- ডিমলা সরকারী মহিলা মহাবিদ্যালয়
- ডিমলা রানী বৃন্দা রানী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
- ডিমলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
- ছোটখাতা বহুমুখী ফাজিল মাদরাসা, ছোটখাতা, ডিমলা, নীলফামারী
- সুন্দরখাতা শফিকুল গনি স্বপন ফাযিল মাদ্রাসা
- নাউতারা আবিউন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়
- শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতী ব্যক্তিত্ব
- মশিউর রহমান যাদু মিয়া; গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সিনিয়র মন্ত্রী ছিলেন।
- শফিকুল গনি স্বপন; তিনি বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন।
- আফতাব উদ্দিন সরকার, সংসদ সদস্য, নীলফামারী ১।
তথ্যসূত্র
- "Geographic coordinates of Dimla, Bangladesh" (ইংরেজি ভাষায়)। DATEANDTIME.INFO। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০১৭।
- Population & Housing Census-2011 [আদমশুমারি ও গৃহগণনা-২০১১] (পিডিএফ) (প্রতিবেদন)। জাতীয় প্রতিবেদন (ইংরেজি ভাষায়)। ভলিউম ২: ইউনিয়ন পরিসংখ্যান। ঢাকা: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। মার্চ ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭।
আরও দেখুন
বহিঃসংযোগ
![]() |
উইকিমিডিয়া কমন্সে ডিমলা উপজেলা সংক্রান্ত মিডিয়া রয়েছে। |