দার্জিলিং
দার্জিলিং হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের একটি শহর ও পুরসভা। এই শহরটি হিমালয়ের শিবালিক পর্বতশ্রেণিতে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬,৭০০ ফু (২,০৪২.২ মি) উচ্চতায় অবস্থিত। শহরটি চা শিল্প, বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য ও ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের জন্য খ্যাত একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গের আংশিক স্বায়ত্ত্বশাসিত জেলা দার্জিলিঙের সদর দফতর এই শহরেই অবস্থিত।
দার্জিলিং | |
---|---|
শহর | |
![]() হ্যাপি ভ্যালি চা বাগান থেকে দার্জিলিং শহরের দৃশ্য | |
ডাকনাম: পাহাড়ের রানি | |
![]() ![]() দার্জিলিং ![]() ![]() দার্জিলিং | |
স্থানাঙ্ক: ২৭°৩′ উত্তর ৮৮°১৬′ পূর্ব | |
দেশ | ![]() |
রাজ্য | পশ্চিমবঙ্গ |
জেলা | দার্জিলিং |
উপনিবেশ স্থাপন | ১৮১৫, সুগাউলির চুক্তি |
প্রতিষ্ঠা করেন | ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি |
সরকার | |
• ধরন | পুরসভা |
• শাসক | দার্জিলিং পুরসভা |
• পুরপ্রধান | প্রতিভা রাই[1] |
• উপ-পুরপ্রধান | সাগর তামাং |
আয়তন | |
• মোট | ১০.৫৭ কিমি২ (৪.০৮ বর্গমাইল) |
উচ্চতা[2] | ২০৪২.১৬ মিটার (৬৭০০.০০ ফুট) |
জনসংখ্যা (২০১১) | |
• মোট | ১,৩২,০১৬ |
• জনঘনত্ব | ১২০০০/কিমি২ (৩২০০০/বর্গমাইল) |
ভাষা | |
• সরকারি | বাংলা ও নেপালি[3] |
সময় অঞ্চল | ভারতীয় প্রমাণ সময় (ইউটিসি+০৫:৩০) |
পিন কোড | ৭৩৪১০১ |
টেলিফোন কোড | ০৩৫৪ |
যানবাহন নিবন্ধন | ডব্লিউবি-৭৬, ডব্লিউবি-৭৭ |
লোকসভা কেন্দ্র | দার্জিলিং |
বিধানসভা কেন্দ্র | দার্জিলিং |
ওয়েবসাইট | www |
উনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে ব্রিটিশ ভারতের ঔপনিবেশিক প্রশাসন এই এলাকায় একটি স্যানেটোরিয়াম ও একটি সামরিক ডিপো স্থাপন করার পর এই শহরের নথিবদ্ধ ইতিহাসের সূচনা ঘটে। এরপর এই অঞ্চলে প্রচুর চা বাগান গড়ে ওঠে এবং চা উৎপাদকেরা কালো চায়ের সংকর উৎপাদন করতে শুরু করেন এবং নতুন ধরনের গাঁজন প্রক্রিয়ার উদ্ভাবনা করেন। এর ফলে যে বিশেষ দার্জিলিং চায়ের উদ্ভব ঘটে, তা আন্তার্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি লাভ করে এবং বিশ্বের সর্বাধিক জনপ্রিয় কালো চাগুলির মধ্যে অন্যতম আসন গ্রহণ করে।[4] দার্জিলিং হিমালয়ান রেল এই শহরকে সমতলের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ভারতের যে অল্প কয়েকটি বাষ্পচালিত ইঞ্জিন এখনও কার্যকরী, তার মধ্যে কয়েকটি এই রেলের অন্তর্গত।
দার্জিলিং শহরে ব্রিটিশ-ধাঁচের একাধিক পাবলিক স্কুল রয়েছে। ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এবং কয়েকটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে ছাত্রছাত্রীরা এখানে পড়াশোনা করতে আসে। লেপচা, খাম্পা, গোর্খা, নেওয়ার, শেরপা, ভুটিয়া, বাঙালি ও ভারতের অন্যান্য জাতি ও ভাষাগোষ্ঠীর সমাবেশ দার্জিলিঙের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে প্রতিফলিত হয়েছে।[5] ১৯৮০-এর দশকে দার্জিলিং এবং পার্শ্ববর্তী জেলার সদর কালিম্পং ছিল গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল।
নাম-ব্যুৎপত্তি
দার্জিলিং নামটির উৎপত্তি তিব্বতি শব্দ দোর্জে (হিন্দু দেবতা ইন্দ্রের বজ্রদণ্ড) ও লিং (স্থান বা দেশ) শব্দ দু-টি থেকে।[6]
ইতিহাস
দার্জিলিংয়ের ইতিহাস সিক্কিম, নেপাল, ভূটান ও ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীন ভাবে জড়িত। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ পর্য্যন্ত সিক্কিম রাজ্য দ্বারা দার্জিলিং সংলগ্ন পাহাড়ী অঞ্চল এবং নেপাল রাজ্য দ্বারা শিলিগুড়ি সংলগ্ন তরাই সমতল অঞ্চল শাসিত হত।[7] ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে নেপালের গুর্খারা সমগ্র পাহাড়ী অঞ্চল অধিকারের চেষ্টা শুরু করলে সিক্কিম রাজ্যের ছোস-র্গ্যাল তাদের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত হয়ে পড়েন। ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে নেপালীরা তিস্তা নদীর তীর পর্য্যন্ত সিক্কিম সেনাবাহিনীকে হঠিয়ে দিতে সক্ষম হয়। এই সময় সমগ্র উত্তর সীমান্তে নেপালীদের বিজয়যাত্রা রুখতে ব্রিটিশরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। ১৮১৪ খ্রিষ্টাব্দে সংগঠিত ইঙ্গ-গুর্খা যুদ্ধের ফলে গুর্খারা পরাজিত হয়ে পরের বছর সগৌলি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির ফলে সিক্কিম রাজ্য থেকে অধিকৃত মেচী নদী থেকে তিস্তা নদী পর্যন্ত সমস্ত অঞ্চল নেপালীরা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে সমর্পণ করতে বাধ্য হয়। ১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে তিতালিয়া চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই অঞ্চল ছোস-র্গ্যালকে ফিরিয়ে দিয়ে সিক্কিম রাজ্যের সার্বভৌমত্ব সুনিশ্চিত করে।[8]

১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক প্রতিনিধিদল নেপাল-সিক্কিম অঞ্চলের সীমান্তে তাদের যাত্রাকালে দার্জিলিং অঞ্চলে অবস্থান করার সময় এই স্থানে ব্রিটিশ সৈন্যবাহিনীর স্বাস্থ্য উদ্ধারকেন্দ্র নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেন।[9][10] ১৮৩৫ খ্রিষ্টাব্দে কোম্পানি ছোস-র্গ্যালের নিকট হতে মহানন্দা নদীর পশ্চিমাঞ্চল লীজ নেন।[11] ১৮৪৯ খ্রিষ্টাব্দে সিক্কিম রাজ্য আর্থার ক্যাম্পবেল নামক কোম্পানির একজন আধিকারিক এবং জোসেফ ডাল্টন হুকার নামক একজন উদ্ভিদবিদ ও অভিযাত্রীকে গ্রেপ্তার করলে কোম্পানি তাদের মুক্ত করার জন্য সেনাবাহিনী পাঠায়, যার ফলে ১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে কোম্পানি ৬৪০ বর্গমাইল (১,৭০০ কিমি২) এলাকা অধিকার করে নেয়। ১৮৬৪ খ্রিষ্টাব্দে ভূ্টান ও ব্রিটিশরা সিঞ্চুলা চুক্তি স্বাক্ষর করলে কালিম্পং ও পাহাড়ের গিরিপথগুলির ওপর ব্রিটিশ রাজের অধিকার হয়।[8] ব্রিটিশ ও সিক্কিমের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিবাদের ফলে ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে তিস্তা নদীর পূর্ব তীরের অঞ্চলগুলি ব্রিটিশদের হস্তগত হয়। ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে ১,২৩৪ বর্গমাইল (৩,২০০ কিমি২) ক্ষেত্রফল এলাকা নিয়ে দার্জিলিং জেলা গঠিত হয়, যা বর্তমানে একই আকারের রয়ে গেছে। [8]
গ্রীষ্মকালে সমতলভূমির প্রচণ্ড দাবদাহ থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ আধিকারিকেরা দার্জিলিংয়ের মনোরম আবহাওয়ায় বসবাস শুরু করলে দার্জিলিং একটি শৈলশহর ও স্বাস্থ্য উদ্ধারকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।[12] আর্থার ক্যাম্পবেল ও রবার্ট নেপিয়ার এই শৈলশহর গঠনে অগ্রণী ভূমিকা নেন। তাদের এই প্রচেষ্টার ফলে ১৮৩৫ থেকে ১৮৪৯ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে পাহাড়ের ঢালে চাষাবাদ ও ব্যবসা বাণিজ্য শুরু হলে দার্জিলিংয়ের জনসংখ্যা শতগুণ বৃদ্ধি পায়।[8][13] ১৮৩৯ থেকে ১৮৪২ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে সমতলের সঙ্গে সংযোগকারী প্রথম সড়কপথ নির্মিত হয়।[12][13] ১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ সৈন্যদের জন্য অস্ত্রাগার নির্মিত হয় এবং ১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দে এই শহরকে পুরসভায় পরিণত করা হয়।[13] ১৮৫৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বাণিজ্যিক ভাবে চা চাষ শুরু হলে বেশ কিছু ব্রিটিশ চা প্রস্তুতকারক এই স্থানে বসবাস শুরু করেন।[9] ১৮৬৪ খ্রিষ্টাব্দে দার্জিলিং শহরকে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী রূপে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করা হয়।[14] স্কটিশ ধর্মপ্রচারকরা ব্রিটিশ আধিবাসীদের জন্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা শুরু করেন। ১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দে দার্জিলিং হিমালয়ান রেল চালু হলে শহরের উন্নয়ন আরো দ্রুত হারে বৃদ্ধি পায়।[15]
ব্রিটিশ শাসনকালের শুরুতে দার্জিলিংকে অর্থনৈতিক ভাবে অনুন্নত জেলা হিসেবে গণ্য করা হত, যার ফলে ব্রিটিশ ভারতের অন্যান্য জেলাতে প্রযোজ্য আইন এই অঞ্চলে বলবত হত না। ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে এই অঞ্চলকে একটি পিছিয়ে পড়া অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়।[16] ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় দার্জিলিং অঞ্চলের চা বাগানগুলিতে অসহযোগ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।[17] ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে সশস্ত্র বিপ্লবীরা বাংলার গভর্নর স্যার জন অ্যান্ডারসনকে হত্যার চেষ্টাও করেন।[18] ১৯৪০-এর দশকে এই জেলার চা শ্রমিকদেরকে সংগঠিত করে কমিউনিস্টরা ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শুরু করেন।[19]
১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের স্বাধীনতার পর দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং ও তরাই অঞ্চলের কিয়দংশ নিয়ে নির্মিত দার্জিলিং জেলাকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। পাহাড়ে নেপালীরা প্রধান জনগোষ্ঠী হিসেবে বসবাস করলেও তরাই সমতলে ভারত ভাগের ফলে পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত বিশাল সংখ্যক বাঙালি উদ্বাস্তুরা বসবাস শুরু করতে শুরু করে। নেপালীদের দাবীগুলির প্রত্যুত্তরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিস্পৃহ মনোভাবে বিংশ শতাব্দীর পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে দার্জিলিংয়ের স্বায়ত্তশাসন ও নেপালী ভাষার স্বীকৃতির দাবী ওঠে।[20]
১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে সিক্কিম নামক একটি নতুন রাজ্যের উদ্ভব হলে এবং ভারত সরকার দ্বারা নেপালী ভাষাকে ভারতীয় সংবিধান অনুসারে প্রাতিষ্ঠানিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের নিস্পৃহতা লক্ষ্য করে এই অঞ্চলে গোর্খাল্যান্ড নামক একটি নতুন রাজ্য তৈরীর জন্য বিংশ শতাব্দীর আশির দশক জুড়ে ব্যাপক ও হিংসাত্মক আন্দোলন শুরু হয়।[21] ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট ও সরকারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে দার্জিলিং গোর্খা পার্বত্য পরিষদ নামক একটি নির্বাচিত প্রতিনিধিদলের সৃষ্টি করা হয়, যাদের ওপর এই জেলার প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের অধিকার দেওয়া হয়। ২০০৮-০৯ সাল নাগাদ ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার পৃথক রাজ্যের দাবী মেনে নিতে অস্বীকৃত হলে পুনরায় ধর্মঘট আন্দোলন শুরু হয়।[22] ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে ভারত সরকার, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার মধ্যে একটি চুক্তির ফলে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নামক একটি নতুন স্বায়ত্তশাসিত পার্বত্য পরিষদ গঠন করে এই জেলার প্রশাসনিক দায়িত্ব প্রদান করা হয়।[23]
জলবায়ু
দার্জিলিং (১৯০১–২০০০)-এর আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য | |||||||||||||
---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
মাস | জানু | ফেব্রু | মার্চ | এপ্রিল | মে | জুন | জুলাই | আগস্ট | সেপ্টে | অক্টো | নভে | ডিসে | বছর |
সর্বোচ্চ °সে (°ফা) গড় | ৯٫৪ (৪৯) |
১০٫৪ (৫১) |
১৪٫৪ (৫৮) |
১৭٫৪ (৬৩) |
১৮٫৫ (৬৫) |
১৯٫৩ (৬৭) |
১৯٫৪ (৬৭) |
১৯٫৬ (৬৭) |
১৯٫২ (৬৭) |
১৮٫০ (৬৪) |
১৪٫৭ (৫৮) |
১১٫৫ (৫৩) |
১৬٫০ (৬১) |
সর্বনিম্ন °সে (°ফা) গড় | ১٫৮ (৩৫) |
২٫৯ (৩৭) |
৬٫৩ (৪৩) |
৯٫৪ (৪৯) |
১১٫৫ (৫৩) |
১৩٫৬ (৫৬) |
১৪٫৩ (৫৮) |
১৪٫২ (৫৮) |
১৩٫৩ (৫৬) |
১০٫৩ (৫১) |
৬٫৩ (৪৩) |
৩٫৩ (৩৮) |
৮٫৯ (৪৮) |
গড় অধঃক্ষেপণ মিমি (ইঞ্চি) | ১৯٫৭ (০٫৭৮) |
২৪٫১ (০٫৯৫) |
৪৭٫৭ (১٫৮৮) |
১১৫٫৮ (৪٫৫৬) |
১৯৭٫২ (৭٫৭৬) |
৫৭০٫০ (২২٫৪৪) |
৭৮১٫৭ (৩০٫৭৮) |
৬৩৫٫৩ (২৫٫০১) |
৪৩৭٫৩ (১৭٫২২) |
১২২٫৫ (৪٫৮২) |
২৩٫৫ (০٫৯৩) |
৭٫০ (০٫২৮) |
২,৯৮১٫৮ (১১৭٫৪১) |
উৎস: Indian Meteorological Department.[24] |

দার্জিলিং শহরে হিমালয়ের পাহাড়ী অঞ্চলের নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া বিরাজ করে।[25] বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ১৫.৯৮ °সে (৬০.৭৬ °ফা) ও গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.৯ °সে (৪৮.০ °ফা),[2] থাকে। শহরের গড় তাপমাত্রা ৫ থেকে ১৭ °সে (৪১ থেকে ৬৩ °ফা) এর মধ্যে ঘোরাফেরা করে।[26] ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই ফেব্রুয়ারি দার্জিলিং শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা −২৪ °সে (−১১ °ফা) রেকর্ড করা হয়।[2] এই শহরে প্রতি বছর গড়ে ১২৬ দিন বৃষ্টিপাত হয় ও বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩০৯.২ সেমি (১২১.৭ ইঞ্চি)[2] জুলাই মাসে সর্বাধিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকে।[26] এই ভারী বৃষ্টিপাত এবং ক্রমবর্ধমান বৃক্ষচ্ছেদ ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ ব্যাপক ধস সৃষ্টি করে জীবন ও ধন সম্পদের ক্ষতিসাধন করে থাকে।[27][28]

দর্শনীয় স্থানসমূহ
- পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিকাল পার্কঃ এই চিড়িয়াখানায় রেড পান্ডা, স্নো লেপার্ড, তিব্বতীয় নেকড়ে সহ পূর্ব হিমালয়ের প্রচুর বিপদগ্রস্ত ও বিলুপ্ত পক্ষী ও প্রাণীদের দেখতে পাওয়া যায়।
- ধীরধাম মন্দিরঃ এটি কাঠমান্ডুর বিখ্যাত পশুপতিনাথ মন্দিরের অনুরূপ।
- বেঙ্গল ন্যাচারাল হিস্টোরি মিউজিয়ামঃ এই জাদুঘর গাছপালা ও পশুপাখিদের প্রাকৃতিক পরিবেশের অন্দরে প্রবেশ করায়।
- লাওডস্ বোটানিকাল গার্ডেনঃ এই উদ্যানে অর্কিড, রডোডেনড্রন, ম্যাগনোলিয়া, প্রিমুলা, ফার্ন সহ নানা জাতের হিমালয়ান উদ্ভিদ পাওয়া যায়।
- লেবং রেস কোর্সঃ এটি পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট এবং সর্বোচ্চ রেস কোর্স।
- ঘুম বৌদ্ধ মনেস্ট্রিঃ এটি এই অঞ্চলের সর্ববৃহৎ মনেস্ট্রি।
- অবজারবেটরি হিলঃ ধীরধাম মন্দির এবং বৌদ্ধ সংরক্ষণালয় এই পর্যবক্ষেণ পাহাড়ের উপর অবস্থিত।
যোগাযোগ ব্যবস্থা
আকাশপথে এখানকার কাছের এয়ারপোর্ট বাগডোগরা। শিলিগুড়ি থেকে নিয়মিত বাস সংযোগ ব্যবস্থা বর্তমান। নিউ জলপাইগুড়ি এবং শিলিগুড়ি এখানকার নিকটস্থ রেল-স্টেশন।
তথ্যসূত্র
- "Pratibha Rai Takes Over As Chairperson Of Darjeeling Municipal Corporation"। Siliguri Times। ১৭ জানুয়ারি ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৮।
- "District Profile"। Official webpage। Darjeeling district। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৬-১৫।
- "Report of the Commissioner for Linguistic Minorities in India: 50th report (delivered to the Lokh Sabha in 2014)" (PDF)। National Commissioner for Linguistic Minorities, Ministry of Minority Affairs, Government of India। পৃষ্ঠা 95। ৮ জুলাই ২০১৬ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুলাই ২০১৫।
- Srivastava 2003, পৃ. 4024।
- "Pre-Independence [Darjeeling]"। Government of Darjeeling। ৩১ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০১৫।
- Dasgupta 1999, পৃ. 47–48।
- "History of Darjeeling"। Official webpage। Darjeeling district। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৬-১৫।
- Dasgupta 1999, পৃ. 50।
- Lamb 1986, পৃ. 69।
- Dasgupta 1999, পৃ. 47।
- Dasgupta 1999, পৃ. 51।
- Lamb 1986, পৃ. 71।
- Kenny 1995, পৃ. 700।
- "Mountain Railways of India"। UNESCO World Heritage Centre। UNESCO। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৬-১৫।
- Borbara, Sanjoy (২০০৩)। "Autonomy for Darjeeling: History and Practice"। Experiences on Autonomy in East and North East: A Report on the Third Civil Society Dialogue on Human Rights and Peace। Mahanirban Calcutta Research Group। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৬-১৫।
- Dasgupta 1999, পৃ. 60।
- "Darjeeling Hills plunges into the Independence Movement"। Official webpage। Darjeeling district। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৬-১৫।
- Dasgupta 1999, পৃ. 61।
- Dasgupta 1999, পৃ. 61–62।
- Dasgupta 1999, পৃ. 62।
- Sujoy Dhar (২০০৯-০৭-১৪)। "Darjeeling protests hit tea and tourism"। Livemint। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-১১-২৫।
- "Darjeeling tripartite pact signed for Gorkhaland Territorial Administration"। Times of India। ১৮ জুলাই ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০১১।
- "Darjeeling Climatological Table 1901–2000" (PDF)। Indian Meteorological Department। ১৩ ২ এপ্রিল ০১৫ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ 16 February 2012। এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন:
|আর্কাইভের-তারিখ=
(সাহায্য) - Malley, L.S.S. O (১৯৯৯) [1907]। Bengal District Gazetteer : Darjeeling। Concept Publishing Company। পৃষ্ঠা 15–16। আইএসবিএন 978-81-7268-018-3।
- "Weatherbase entry for Darjeeling"। Canty and Associates LLC। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-০৪-৩০।
- Sarkar 1999, পৃ. 299।
- Malabi Gupta (২০০৯-১১-২৬)। "Brewtal climate: Droughts, storms cracking Darjeeling's teacup"। Hindustan Times। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-১২-০৩।
উৎস
- Aftab, Aaris (২০০৫)। Are the Third World cities sustainable?। Allied Publishers। পৃষ্ঠা 201। আইএসবিএন 978-81-7764-869-0।
- Bhattacharya, Anima (১৯৯৫)। Planning in the Perspective of Development। M.D. Publications। পৃষ্ঠা 231। আইএসবিএন 978-81-85880-62-4।
- Dasgupta, Atis (১৯৯৯)। "Ethnic Problems and Movements for Autonomy in Darjeeling"। Social Scientist। 27 (11–12): 47–68। doi:10.2307/3518047। জেস্টোর 3518047।
- de Bruyn, Pippa; Bain, Keith; Venkatraman, Niloufer; Joshi, Shonar (২০০৮)। Frommer's India। Frommer's। আইএসবিএন 978-0-470-16908-7। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০১-০৮।
- Froehlich, W. (১৯৯০)। "Thresholds in the Transformation of Slopes and River Channels in the Darjeeling Himalaya, India"। Annals of the Association of American Geographers। 10 (4): 301–312। জেস্টোর 3673492।
- Gerard, John (১৯৯০)। Mountain environments: an examination of the physical geography of mountains। MIT Press। পৃষ্ঠা 317। আইএসবিএন 0-262-07128-2।
- Kenny, Judith (১৯৯৫)। "Climate, Race, and Imperial Authority: The Symbolic Landscape of the British Hill Station in India"। Annals of the Association of American Geographers। 85 (4): 694–714। doi:10.1111/j.1467-8306.1995.tb01821.x। জেস্টোর 2564433।
- Lamb, Alastair (১৯৮৬)। British India and Tibet, 1766–1910 (2nd সংস্করণ)। Taylor & Francis। পৃষ্ঠা 353। আইএসবিএন 978-0-7102-0872-9।
- Mackintosh, L.J. (২০০৯)। Birds of Darjeeling and India (2nd সংস্করণ)। BiblioBazaar, LLC। পৃষ্ঠা 322। আইএসবিএন 978-1-116-11396-9।
- Negi, Sharad Singh (১৯৯২)। Himalayan wildlife, habitat and conservation। Indus Publishing। পৃষ্ঠা 207। আইএসবিএন 978-81-85182-68-1।
- Sarkar, S. (১৯৯৯)। "Landslides in Darjeeling Himalayas, India"। Transactions of the Japanese Geomorphological Union। 20 (3)। পৃষ্ঠা 299–315। আইএসএসএন 0389-1755।
- Srivastava, Suresh C. (২০০৩)। "Geographical Indications and Legal Framework in India"। Economic and Political Weekly। 38 (38): 4022–4033। জেস্টোর 4414050।
- Subba, Tanka Bahadur (২০০৯)। Indian Nepalis: issues and perspectives। Concept Publishing Company। পৃষ্ঠা 398। আইএসবিএন 978-81-8069-446-2।
- Tamang, Jyoti P.; Sarkar, Prabir K; Hesseltine, Clifford W (১৯৮৮)। "Traditional Fermented Foods and Beverages of Darjeeling" (PDF)। Journal of the science of food and agriculture। 44 (4): 375–385। doi:10.1002/jsfa.2740440410।
- Waterhouse, David M. (২০০৪)। The origins of Himalayan studies: Brian Houghton Hodgson in Nepal and Darjeeling, 1820–1858। Routledge। পৃষ্ঠা 280। আইএসবিএন 978-0-415-31215-8।
আরো পড়ুন
- Bradnock, R; Bradnock, R (২০০৪)। Footprint India Handbook (13th সংস্করণ)। Footprint Handbooks। আইএসবিএন 1-904777-00-7।
- Brown, Percy (১৯১৭)। Tours in Sikhim and the Darjeeling District (3rd (1934) সংস্করণ)। Calcutta: W. Newman & Co.। পৃষ্ঠা 223। ASIN B0008B2MIY।
- Forbes, Andrew ; Henley, David (2011). China's Ancient Tea Horse Road. Chiang Mai: Cognoscenti Books. ASIN: B005DQV7Q2
- Kennedy, Dane (১৯৯৬)। Magic Mountains: Hill Stations and the British Raj। University of California Press। পৃষ্ঠা 265। আইএসবিএন 0-520-20188-4।
- Lee, Ada (১৯৭১)। The Darjeeling disaster: Triumph through sorrow: the triumph of the six Lee children। Lee Memorial Mission। ASIN B0007AUX00।
- "Newman's Guide to Darjeeling and Its Surroundings, Historical & Descriptive, with Some Account of the Manners and Customs of the Neighbouring Hill Tribes, and a Chapter on Thibet and the Thibetans"। W. Newman and Co.। ১৯০০।
- Ronaldshay, The Earl of (১৯২৩)। Lands of the Thunderbolt. Sikhim, Chumbi & Bhutan। London: Constable & Co.। আইএসবিএন 81-206-1504-2।
- Roy, Barun (২০০৩)। Fallen Cicada - Unwritten History of Darjeeling Hills (2003 সংস্করণ)। Beacon Publication। পৃষ্ঠা 223। আইএসবিএন 81-223-0684-5।
- Saraswati, Baidyanath (ed.) (১৯৯৮)। Cultural Dimension of Ecology। DK Print World Pvt. Ltd, India। আইএসবিএন 81-246-0102-X।
- Singh, S. (২০০৬)। Lonely Planet India (11th সংস্করণ)। Lonely Planet Publications। আইএসবিএন 1-74059-694-3।
- Waddell, L.A. (২০০৪)। Among the Himalayas। Kessinger Publishing। আইএসবিএন 0-7661-8918-X।
![]() |
উইকিভ্রমণে দার্জিলিং সম্পর্কিত ভ্রমণ নির্দেশিকা রয়েছে। |