কাজী সালাউদ্দিন
কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (জন্ম: ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৫৩) বাংলাদেশের একজন সাবেক ফুটবলার। তিনি স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য ছিলেন, যে দলটি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তহবিল সংগ্রহের জন্য ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রীতি ম্যাচ খেলেছেন। সালাউদ্দিনই প্রথম খেলোয়াড় যিনি হংকং প্রফেশনাল লীগ এ অংশ নিয়েছিলেন এবং দেশের জনপ্রিয় এবং সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নাম করেছিলেন। কাজী সালাউদ্দীন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের বর্তমান সভাপতি এবং বিদেশে পেশাদার লীগে অংশগ্রহণকারী প্রথম বাংলাদেশী ফুটবলার।[1][2]
সালাহ উদ্দিন | |
---|---|
জন্ম | কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৫৩ |
জাতীয়তা | বাংলাদেশী ![]() |
পেশা | সাবেক ফুটবলার, ক্রীড়া সংগঠক |
পরিচিতির কারণ | ফুটবলার |
পুরস্কার | স্বাধীনতা পুরস্কার |
প্রারম্ভিক জীবন
২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৫৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন কাজী সালাউদ্দিন। কাজী সালাউদ্দিনের পিতা কে এম শফি ব্যবসায়ী ছিলেন। মাতা সিমকী শফি গৃহিনী। ২ ভাই ১ বোন। ১৯৭২ সালে বিয়ে করেছেন। স্ত্রী ইমা সালাউদ্দিন গৃহিনী। ১ ছেলে ১ মেয়ের জনক কাজী সালাউদ্দিন।
বিএএফ শাহীন স্কুলে পড়াশুনার শুরু। ১৯৬৯ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর ঢাকা কলেজ, পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পড়াশুনা শেষ করেন।
খেলোয়াড় জীবন
ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে ওয়ারি ক্লাবে ১৯৬৯ তে। তবে ফুটবলের আগেই তার ক্রিকেটের প্রথম বিভাগ অভিষেক হয় ১৯৬৮ সালেই আজাদ বয়েজের হয়ে। সে সময় আজাদ বয়েজ ছিল অন্যতম শক্তিশালী ক্রিকেট দল। এমনকি ৭০ এ শুরুর দিকে দুইবার জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলার জন্য ডাক পান।[3][4] পরে পুরোপুরি ফুটবলে মন দেন। ১৯৭০সালে মোহামেডানে যোগ দেন। ৭১ এ স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল এ যোগ দেন। ১৯৭২ থেকে ১৯৮৪ আবাহনী ক্রীড়া চক্রের খেলোয়াড় ছিলেন। ১৯৭১ থেকে ১৯৮৩ পর্যন্ত জাতীয় দলের অন্যতম প্রধান সদস্য ছিলেন। ১৯৭৫ আর ১৯৭৯ এ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়কত্ব করেন। ১৯৭৫ সালে জাতীয় দলের হয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে যান মালয়েশিয়ায় মারদেকা কাপ এ। ১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে হংকং এর পেশাদার লীগের দল ক্যারোলিন হিল এফ সি তে খেলেন। ইনজুরির কারণে ফিরে আসেন হংকং থেকে। [5][6] ১৯৮৪ সালে ফুটবল ছাড়লেন। লীগের শেষ ২টি ম্যাচ ছিল তার ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচ। শেষ ম্যাচের আগের ম্যাচে করলেন হ্যাটট্রিক। আর শেষ ম্যাচে আবাহনীর সাথে মোহামেডানের বিপক্ষে খেলেন।[4]
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলে সালাউদ্দিন
২৬ মার্চের পর তারা তিন বন্ধু মিলে রওনা দিলেন আগরতলা। সেখানে গিয়ে যুদ্ধের ট্রেনিং এর জন্য অপেক্ষা করছেন তারা এমন সময় কলকাতা থেকে এক আলোকচিত্র-সাংবাদিক এসে খুঁজে বের করলেন সালাউদ্দিনকে। তার মুখে খবর পেলেন তিনি স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল গঠন করা হয়েছে। সেই সাংবাদিক সালাউদ্দিনকে বললেন তোমার বন্ধুরা সব তোমার জন্য আপেক্ষা করছে কলকাতায়। তুমি সেখানে যেয়ে ফুটবল দলে যোগ দাও। তাকে কলকাতা যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিলেন সেই সাংবাদিকই। মালবাহী বিমানে করে রওনা দিলেন তিনি। ততদিনে গঠিত হয়ে গেছে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল। তিনি গিয়ে যোগ দিলেন সেই দলে। ঢাকায় বাবা-মার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সালাউদ্দিন তার নিজের নাম ব্যবহার না করে তূর্য হাজরা নাম ব্যবহার করলেন। প্রথম ম্যাচ খেলেছিলেন মোহনবাগানের বিপক্ষে।[4]
কোচিং ক্যারিয়ার
১৯৮৫ তে আবাহনীর কোচ হন এবং ঐ বছর সবকটি টুর্নামেন্ট জিতেন। ১৯৮৫-১৯৮৮ জাতীয় দলের কোচ ছিলেন। ১৯৮৮ তে কোচিং একবার ছড়ে দিলেও ১৯৯২ তে আবার ফিরে আসেন আবাহনীর কোচ হয়ে। আবাহনী ওই বছর লীগে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। ১৯৯৪ সালে মুক্তিযোদ্ধা ফুটবল ক্লাবের কোচের দায়িত্ব নেন। মুক্তিযোদ্ধা ঐ বছর ফেডারেশন কাপ জিতে। সে বছর পিতার মৃত্যুর পর কোচিং ছেড়ে দেন। ২০০৬ এ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি হন।
তথ্যসূত্র
- http://www.sangbad.com.bd/?view=details&type=gold&data=Career&pub_no=897&menu_id=18&news_type_id=1&val=84314%5B%5D
- "Goal Programme - Bangladesh Football Federation - 2005"। FIFA.com। সংগ্রহের তারিখ 2007-10-31। এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন:
|সংগ্রহের-তারিখ=
(সাহায্য) - http://www.banglafootball.net/2007/03/kazi-salahuddin-interview.html ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৭ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে ডেইলি স্টার পত্রিকার সাথে দেয়া সাক্ষাতকার বাংলাফুটবল ডট কম থেকে সংগৃহিত
- http://www.gunijan.org.bd/GjProfDetails_action.php?GjProfId=109 গুণিজন ডট অর্গ ওয়েবসাইট
- http://www.banglafootball.net/2007/03/kazi-salahuddin-interview.html ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৭ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে বাংলাফুটবল ডট কম
- "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০০৯।