মহাপ্রস্থানিকপর্ব
মহাপ্রস্থানিকপর্ব মহাভারতের ১৮ টি পর্বের মধ্যে ১৭তম পর্ব । এতে ৩ টি অধ্যায় আছে ।[1][2] এটি মহাভারতের ক্ষুদ্রতম পর্ব । মহাপ্রস্থানিকপর্বে পাণ্ডবদের ভারত ভ্রমণ, হিমালয় অভিমুখে যাত্রা এবং মেরু পর্বৎ থেকে স্বর্গারোহণ এর কথা বর্ণিত হয়েছে । তাঁদের প্রস্থানের পথে এক কুকুর তাঁদের পিছু নেয় । যাত্রাপথে সবার আগে দ্রৌপদী প্রাণ হারান । মধ্যপথে বাকি চার পাণ্ডবও প্রাণ হারান । কেবল যুধিষ্ঠির একা মেরু পর্বতে আরোহণ করেন । বাকিদের স্বশরীরে স্বর্গে না যাওয়ার কারণও এখানে বলা হয়েছে ।[1][3]

গঠনশৈলী ও অধ্যায়সমূহ
মহাপ্রস্থানিকপর্বে মাত্র ৩ টি অধ্যায় আছে এবং কোন উপপর্ব নেই ।[2] এটি এই গ্রন্থের সবচেয়ে ছোট পর্ব ।[4]
পটভূমিকা

মৌষলপর্বের শেষে ঋষি বেদব্যাস অর্জুন ও তাঁর ভাইদের রাজ্য ত্যাগ করে প্রস্থান করতে বলেন কারণ তাঁরা যে উদ্দেশ্যে পৃথিবীতে এসেছিলেন তা পূর্ণ হয়েছে । অর্জুন যুধিষ্ঠিরকে ব্যাসের উপদেশ জানান এবং তাঁর ভাইয়েরা এবং দ্রৌপদী মহাপ্রস্থানের জন্য রাজি হন ।[5]
সারাংশ
পরীক্ষিৎকে রাজ্যে অভিষিক্ত করে এবং যুযুৎসুর উপর রাজ্য পালনের ভার দিয়ে যাদবদের একমাত্র বংশধর কৃষ্ণপৌত্র বজ্রকে ইন্দ্রপ্রস্থে অভিষিক্ত করে যুধিষ্ঠির হিমালয় অভিমুখে যাত্রা শুরু করলেন । যাত্রাপথে এক কুকুর তাঁদের পিছু নিল । তাঁরা বহু দেশ ঘুরে লৌহিত্য সাগরের তীরে উপস্থিত হলেন ।[2] অর্জুন আসক্তিবশত গাণ্ডীব ধনু ও অক্ষয় তূণ যুগল সঙ্গে এনেছিলেন এতে অগ্নি মূর্তিমান হয়ে সেগুলো বরুণ দেবকে ফেরত দিতে বলেন । অর্জুন তাই ধনু ও তূণ লৌহিত্য সাগরের জলে নিক্ষেপ করলেন । পৃথিবী প্রদক্ষিণের ইচ্ছায় তাঁরা প্রথমে দক্ষিণে গেলেন এরপর লবণসমুদ্রের উত্তর তীর দিয়ে পশ্চিম দিকে গিয়ে সাগর প্লাবিত দ্বারকা নগরী দেখে উত্তর দিকে চললেন ।[2]
পাণ্ডবগণ বালুকার্ণব ও মেরুপর্বত দর্শন করে যোগযুক্ত হয়ে দ্রুত চলতে লাগলেন । যেতে যেতে সহসা দ্রৌপদী যোগভ্রষ্টা হয়ে ভূপতিত হন । ভীম তাঁর মৃত্যুর কারণ জিজ্ঞাসা করলে যুধিষ্ঠির বলেন অর্জুনের প্রতি এঁর বিশেষ পক্ষপাত ছিল । কিছুক্ষণ পর সহদেব পড়ে গেলে ভীম তাঁর মৃত্যুর কারণ জিজ্ঞাসা করেন; উত্তরে যুধিষ্ঠির বলেন সহদেব ভাবতেন তাঁর চেয়ে বিজ্ঞ আর কেউ নেই । এরপর নকুল পড়ে গেলে ভীমের প্রশ্নের জবাবে যুধিষ্ঠির বলেন নকুল মনে করতেন তাঁর তুল্য রূপবান আর কেউ নেই । কিছুদুর গিয়ে শোকার্ত অর্জুনও পড়ে গেলেন । অর্জুনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে যুধিষ্ঠির বলেন অর্জুন একদিনেই সকল শত্রু নাশ করার গর্ব করতেন যা তিনি পারেন নি; তাছাড়া তিনি অন্য ধনুর্বেদদের অবজ্ঞা করতেন ।[1] সবার শেষে ভীমও পড়ে গেলেন তিনি তাঁর আসন্ন মৃত্যুর কারণ জিজ্ঞাসা করলে যুধিষ্ঠির বলেন ভীম অত্যন্ত ভোজন করতেন এবং অন্যের বল না জেনেই নিজ বলের গর্ব করতেন ।[6]

এরপর ইন্দ্র রথে চেপে যুধিষ্ঠিরের কাছে এসে তাঁকে রথে উঠতে বলেন কিন্তু তিনি তাঁর আত্মীয়দের ফেলে যেতে রাজি হন না ।[1] ইন্দ্র বলেন তাঁরা দেহত্যাগ করে আগেই স্বর্গে গেছেন । এতে যুধিষ্ঠির তাঁর সাথে আসা কুকুরকেও সঙ্গে নিতে প্রস্তাব করেন । কিন্তু ইন্দ্র বলেন যাঁর সাথে কুকুর থাকে তিনি স্বর্গে যেতে পারেন না । কিন্তু যুধিষ্ঠির বলেন শরণাগতকে ভয় দেখানো, স্ত্রীবধ, ব্রহ্মস্বহরণ ও মিত্রবধ এই চার কার্যে যে পাপ হয় ভক্তকে ত্যাগ করলেও সেই পাপ হয় তাই তিনি ভক্তকে ত্যাগ করবেন না । তখন কুকুররূপী ভগবান ধর্ম নিজ রূপ ধরে বলেন স্বর্গে তাঁর তুল্য কেউ নেই । তিনি স্বশরীরে স্বর্গারোহণ করে অক্ষয়লোক লাভ করবেন । [2][4]
উৎস
- Mahaprasthanika Parva The Mahabharata, Translated by Manmatha Nath Dutt (1905)
- Mahaprasthanika Parva The Mahabharata, Translated by Kisari Mohan Ganguli, Published by P.C. Roy (1893)
- John Murdoch (1898), The Mahabharata - An English Abridgment, Christian Literature Society for India, London, pages 132-137
- Bibek Debroy, The Mahabharata : Volume 3, আইএসবিএন ৯৭৮-০১৪৩১০০১৫৭, Penguin Books, page xxiii - xxiv of Introduction
- Mahaprasthanika Parva The Mahabharata, Translated by Kisari Mohan Ganguli, Published by P.C. Roy (1893)
- C Rajagopalachari (2008), Mahabharata, 52nd Editio, Bhavan's Book University. আইএসবিএন ৮১-৭২৭৬-৩৬৮-৯
- রাজশেখর বসুর মহাভারত
বহিঃসংযোগ
- Mahaprasthanika Parva, English Translation by Kisari Mohan Ganguli
- Mahaprasthanika Parva, English Translation by Manmatha Nath Dutt
- Mahaprasthanika Parva in Sanskrit by Vyasadeva with commentary by Nilakantha - Worldcat OCLC link
- Mahaprasthanika Parva in Sanskrit and Hindi by Ramnarayandutt Shastri, Volume 5
- PDF and eBook of Ganguli’s translation, with Sanskrit PDF.
- “Yudhishthira and His Dog”, A4 PDF, tablet version (Ganguli’s version annotated) and Sanskrit text links.