কানাডা–বাংলাদেশ সম্পর্ক

কানাডা–বাংলাদেশ সম্পর্ক হল কানাডা এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রদ্বয়ের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। ১৯৭২ সালে এ দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক স্থাপিত হয়।[1] ঢাকায় অবস্থিত দূতাবাসের মাধ্যমে কানাডা বাংলাদেশে এবং অটোয়ায় অবস্থিত দূতাবাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ কানাডায় তাদের প্রতিনিধিত্ব করে।[1] দুই দেশই কমনওয়েলথ অব ন্যাশনস এবং জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্র। ২০১৪ সালের জানুয়ারি মতে বাংলাদেশ প্রতিবছর কানাডা থেকে উন্নয়ন বাবদ প্রায় ~$ ১০০ মিলিয়ন অর্থসাহায্য পেয়ে থাকে।[2] ধারণা করা হয় প্রায় ৩৪, ০০০ (২০১২)[3] বাংলাদেশি নাগরিক কানাডায় বসবাস করছে, যাদের অধিকাংশই টরেন্টো, ভ্যানকুভের, মন্ট্রিল, ক্যালগ্যারি এবং অটোয়ায় বসবাস করে থাকেন।

কানাডা–বাংলাদেশ সম্পর্ক

বাংলাদেশ

কানাডা
ঢাকা, বাংলাদেশে অবস্থিত কানাডীয় দূতাবাস।

বাংলাদেশের সাথে কানাডার সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ, যার গভীরতা গত পঁয়তাল্লিশ বছরে আরো বেড়েছে। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠালাভের সময় রাজনৈতিক সম্পর্ক যাত্রা শুরু করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় কানাডআ সরকার, জনগণ এবং মিডিয়া বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছিল। কানাডা সেই সকল দেশের মধ্যে একটি যারা বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরপরই (১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২) বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। এর পরেই ১৯৭২ সালে মে মাসে বাংলাদেশ কানাডায় রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করে, এবং কানাডা বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেয় ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে ধীরে ধীরে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটতে থাকে। রাজনৈতিক সম্পর্কও কমনওয়েলথ এবং নানাবিধ ইউএন কর্মকাণ্ডে বরাবরের মতই সহযোগিতামূলক ছিল।[4]

গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মানবাধিকার, আইনের প্রয়োগ ইত্যাদির মূল্যবোধের উপর প্রতিষ্ঠিত এ দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক মূলত বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, উন্নয়নমূলক সহযোগিতা, অভিবাসন প্রভৃতি বিষয়ের উপর বিশেষ লক্ষ্য রাখে। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ১৯৭১ সালে স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশে কানাডার উন্নয়নমূলক কাজের মধ্যে ছিল পুনর্নির্মাণ এবং পুনর্বাসন, এবং তারপর সরকার ও গ্রামীন উন্নয়ন; বিশেষত কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে। গণতন্ত্র ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের উদ্যোগ ও স্পৃহাকে বরাবরই কানাডা প্রশংসা করে এসেছে। কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (সিআইডিএ) নানাবিধ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও অবদান রেখে চলেছে।[4]

বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা

তুলনামূলক অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান (২০১৬)

ধরনবাংলাদেশকানাডা
জিডিপি:($ বিলিয়ন)৩০২.০২২০২৬.৫৯
মাথাপিছু জিডিপি: ($)১,৮৬৯.৯৭৫৫,৯৩৮.৫৬
জিডিপি বৃদ্ধিহার: (%)৬.৯২১.৪৩
মূদ্রাস্ফীতি: (%)৬.৩৫১.৪১
বেকারত্ব: (%)

কানাডার সাথে বাংলাদেশের রপ্তানি-আমদানি ব্যবসা (২০০৫-২০১৫)[5]

সালমোট রপ্তানি (মিলিয়ন মার্কিন$)মোট আমদানি (মিলিয়ন মার্কিন$)পরিমাণ (মিলিয়ন মার্কিন$)
২০০৫-০৬৪০৮.৭৮১২৮.০০২৮০.৭৮
২০০৬-০৭৪৬০.২৭১৬৩.০০২৯৭.২৭
২০০৭-০৮৫৩৯.৩৮৩১৫.৭২২২৩.১৬
২০০৮-০৯৬৭০.৬৭৪৫৮.৫৭২১২.১০
২০০৯-১০৬৭২.৪৯৫৯৩.২১৭৯.২৮
২০১০-১১১০০৫.৫৫৫৪৯.৯৩৪৫৫.৬২
২০১১-১২১০০৮.৫৫৫৪৯.৯৩৪৫৫.৬২
২০১২-১৩১১০৬.৬৯৫৩৩.৬১৫৭৩.০৮
২০১৩-১৪১১১৩.৮৩৫৭২.৮০৫৪১.০৩
২০১৪-১৫ (মে, ২০১৫ পর্যন্ত)১১৫৭.৭৮--

কানাডা - বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য পণ্য (২০১১-২০১৫)[6]

সালবাংলাদেশে আমদানিকৃত পণ্য / কানাডা থেকে আমদানিকৃত পণ্যবাংলাদেশ থেকে রপ্তানিকৃত পণ্য / কানাডায় আমদানিকৃত পণ্য
2011$৫৫২,৫৪৬,৪৮১$১,০৬৩,৯১৯,২৩৯
2012$৫২৫,৮১৪,৫৮১$১,১৩১,১৯০,৯৬৫
2013$৬৬০,৪৮২,৯৩৯$১,১৯১,৩৫৬,৫৩২
2014$৭০৫,২৩৭,৫১৯$১,২২৫,৬০৮,৯২৭
2015$৯০৪,০৬২,২২০$১,৪৮১,৩৬১,২৪৪
২০১১ ও ২০১৫ সালের মধ্যে সর্বমোট$৩,৩৪৮,১৪৩,৭৪০$৬,০৯৩,৪৩৬,৯০৭

২০১৫ সালে বাংলাদেশের সাথে কানাডার পণ্য-বাণিজ্য[7]

বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিকৃত পণ্য / কানাডায় আমদানিকৃত পণ্যবাংলাদেশে আমদানিকৃত পণ্য / কানাডা থেকে আমদানিকৃত পণ্য
পণ্যের শ্রেণিবিভাগমোট আমদানির %পণ্যের শ্রেণিবিভাগমোট রপ্তানির %
১.বোনা পোশাক এবং পোশাক৪৯.৫৫সিরিয়াল৪০.১১
২.নিটেড বা ক্রোচেটেড তথা বুননকৃত পণ্য৩৯.২২ভক্ষণযোগ্য সব্জি, শিকড় এবং টিউবার২৭.২৯
৩.অন্যান্য বস্ত্রজাত সামগ্রি ইত্যাদি.৬.০৮তেল, বীজ এবং বিবিধ ফল, শস্য ইত্যাদি১৬.২৫
৪.মস্তকাবরণ১.৬৬সার৭.৯৮
৫.জুতা১.২৯লোহাস্টিল৪.৪৪
৬.চামড়াজাত পণ্য০.৩৪বয়লার, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি১.০৮
৭.মাছ, ক্রাস্টাসীয় খাদ্য, মলাস্কস০.৩০আলোকযন্ত্র, চিকিৎসীয় যন্ত্র, বৈজ্ঞানিক যন্ত্র, প্রযুক্তিক যন্ত্র০.৬৪
৮.ছাতা, হুইপস, হাঁটা-সহায়ক লাঠি০.২৭উডপাল্প; কাগজ বা পেপারবোর্ড স্ক্র্যাপ০.৫৪
৯.ফার্নিচার এবং স্টাফকৃত গৃহসামগ্রী০.২১কাঠ ও কাঠজাত, কাঠকয়লা০.৪২
১০.সিরামিক পণ্য০.১৬তড়িৎ যন্ত্রসামগ্রী০.২৫
বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের %৯৯.০৮বাংলাদেশে রপ্তানিকৃত পণ্যের %৯৮.৯৯
মোট কানাডীয় রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবদান (%) ০.২৮মোট কানাডীয় আমদানিতে বাংলাদেশের অবদান (%)০.১৯

২০১৫ সালে কানাডা-বাংলাদেশ পণ্য বাণিজ্য [6]

ProductCanadian Exports to BangladeshCanadian Imports from Bangladesh
১.প্রাণি ও পণ্য$৪১৬,৮৩৮$৪,৪৪৫,৮৪৮
২.সবজি$৭৫৩,৮২২,৬০৭$১,৩৪৮,০৩৭
৩.স্নেহপদার্থ, তেল ও মোম$১৫২,০৫৩$৮৩,২২১
৪.খাদ্য$১,০২১,৭০৭$২,২৬২,০৭০
৫.খনিজ$২,৪৪৯$৭১৬
৬.রাসায়নিক দ্রব্য$৭৩,৮৭৭,৭৯৩$১,৬৪৩,৮২০
৭.প্লাস্টিক, রাবার$৮২৬,১৫২$১,৫৯৭,১৯২
৮.চামড়া, পশম$১৬,১৯১$৫,০৪৩,১৩০
৯.তেল$৩,৭৪৬,৯৭২$২১৮,৭৪৪
১০.কাগজ$৫,৭৫৬,০০২$১১৯,৫৪৯
১১.বস্ত্র$১,৭৬৩,৮২৫$১,৪০৬,০১৬,৭৪১
১২.পোশাকজাত পণ্য$৬৯,৪৪১$৪৭,৯৯৮,০৪৮
১৩.কাচপাথর$৩,৬১৪$২,৪২৯,৬৫৩
১৪.দামি ধাতু/পাথর-$১৩,৮৫১
১৫.ক্ষারীয় ধাতু$৪০,৪১২,৩১২$৭৯,৪৬০
১৬.যন্ত্র - যন্ত্রকৌশল ও তড়িৎকৌশল$১২,৯৫৬,৭৭৭$১০২,৪২৪
১৭.যানবাহন ও পণ্য$২,৪৩৭,৬২১$25,৯৬৬
১৮.বিশেষায়িত যন্ত্র$৬,১৫৬,৪২৩$৯৭৫,২১৭
১৯.অস্ত্রশস্ত্র$১৪,১৪০-
২০.বিবিধ সামগ্রি$২১,৮১৫$৪,৪১৫,০৬২
২১.অ্যান্টিক সামগ্রি$৩৫,০৫০$১০৪

শেষ দশ বছর ধরে কানাডা ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৩ সালে $৪৭৮ মিলিয়ন থেকে তিনগুণেরও বেশি বেড়ে গিয়ে ২০১২ সালে এর পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় $১.৭ বিলিয়ন ডলারে।[1] এই সময় ধরে বাংলাদেশে কানাডীয় রপ্তানির পরিমাণ চারগুণেরও বেশি বেড়েছে এবং দক্ষিণ এশিয়া থেকে আমদানির পরিমাণের দিক থেকে ভারতের পরেই বাংলাদেশ - দ্বিতীয় বৃহত্তম অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশে কানাডীয় পণ্য আমদানির পরিমাণ ২০১২ সালের দিকে ছিল $৫২৫ মিলিয়ন, যা ২০১১ সালের থেকে কিছুটা কম কারণ ২০১১ সালে এই পরিমাণ ছিল $৫৫২ মিলিয়ন। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির পরিমাণ ২০১১ সাল নাগাদ ছিল $১.১ বিলিয়ন, পরের বছর (২০১২) তা অপরিবর্তিত থাকে।

বাংলাদেশে কানাডার প্রধান রপ্তানিপণ্যের মধ্যে রয়েছে সিরিয়াল, সবজি, লোহা ও স্টিল, তেলবীজ, সার, যন্ত্রপাতি এবং তড়িৎ যন্ত্রসামগ্রি। দক্ষিণ এশিয়া থেকে আমদানি পণ্যের মধ্যে প্রধান হিসেবে ছিল কৃষিজাত খাদ্য। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পর বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি কৃষিজাত পণ্য যায় কানাডায়। কানাডা–বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হল সাসক্যাটচুয়ান প্রদেশ। এই অঞ্চলের রপ্তানি পণ্য হল মূলত ভূট্টা, সারডাল। এই পরিমাণ গত ১২ বছরে পাঁচগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে; ২০০৩ সালে $৪৯ মিলিয়ন থেকে ২০১৫ সালে $৪১২.৫ মিলিয়নে।[8] ২০১৪ সালে কানাডীয় ব্যবসায়ী সংস্থা এবং বাংলাদেশ কৃষিউন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে প্রায় $৪০ মিলিয়নের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সাসক্যাটচুয়ানের প্রধানমন্ত্রী ব্র্যাড ওয়াল বলেন, "এর মাধ্যমে কানপোটেক্সকে নতুন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করার পাশাপাশি কৃষিউৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্যনিরাপত্তার লক্ষ্যপূরণের কাছাকাছি একটি দেশকে রীতিমত সাহায্য করাও সম্ভব হচ্ছে।"[9]

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা কানাডার পণ্যসামগ্রির মধ্যে রয়েছে বুননকৃত পোশাক, বিবিধ বস্ত্রসামগ্রি, হেডগিয়ার, মাছ, সামুদ্রিক খাবার এবং জুতা। বাংলাদেশি বস্ত্রসামগ্রি কানাডাতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে রয়েছে। ২০০৩ সাল থেকে বাংলাদেশ কানাডীয় বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশ উপভোগ করছে। কানাডার বাজারে তৈরি পোশাক, পোর্সেলেইন, পাট, মানসম্মত জুটজাত পণ্য, সিরামিক টেবিলওয়্যার প্রভৃতি পণ্যের বিশেষ চাহিদা রয়েছে।[1]

২০১২ সালে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে $১.১ বিলিয়ন মূল্যের বস্ত্রজাত পণ্য,[10]), হিমায়িত মাছ, প্লাস্টিক পণ্য, মস্তকাবরণ, সিরামিক পণ্য, জুতা, খেলনা, গেইম, ফার্নিচার ইত্যাদি। ২০০৭ সালে কানাডায় বাংলাদেশ প্রায় $৫০৬ মিলিয়নের পণ্য রপ্তানি করায়, যা ২০০৯ সালে $৭০৬ মিলিয়ন এবং $৮১৩ মিলিয়নে এবং ২০১১ সালে $১.০৭৮ বিলিয়নে পৌঁছায়,[11] এবং ২০১৪ সালে তা গিয়ে পৌঁছায় $১.১ বিলিয়নে।[12] কানাডা বর্তমানে এর ষষ্ঠ বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। আগামী বছরগুলোতেও কানাডায় রপ্তানি বজায় রাখা করা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।[12]

বাংলাদেশ মূলত লাল মশলা, সিরিয়াল, ভক্ষণযোগ্য তেল, তেলবীজ, বিবিধ ফলজাত দ্রব্য, সার, যান্ত্রিক দ্রব্যসামগ্রী, উডপাল্প, কাগজ, পেপারবোর্ড, স্ক্র্যাপ, আলোক, চিকিৎসীয়, বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিক প্রভৃতি যন্ত্রপাতি আমদানি করে থাকে। বাংলাদেশ খাদ্যশস্য ও কৃষিপণ্য আমদানির দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় বৃহত্তম অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে জাহাজনির্মাণ, ঔষধ, চামড়া, চামড়াজাত পণ্য, তথ্যপ্রযুক্তিক পণ্য প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে দেখা হয়।[13]

২০১৬ সালে বাংলাদেশ-কানাডার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল মার্কিন $২ বিলিয়ন[14][15] এবং ২০২০ সাল নাগাদ এই পরিমাণ $৫ বিলিয়নে নিয়ে যাবার লক্ষ্যমাত্র নির্ধারিত হয়েছে।[16][17][18][19] কানাডীয় রাষ্ট্রদূত লারামে কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুদ্যে বাংলাদেশের সাথে কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক খাতসমূহে।[20] তিনি লিঙ্গবৈষম্য ও স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের সাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।[20][21] খাদ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি, অটোমোটিভ,[22] জাহজনির্মাণ, সেবা ও আতিথেয়তা প্রভৃতি ক্ষেত্রে কানাডীয় কোম্পানি কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহী।[13]

শিক্ষা ও সংস্কৃতি

কানাডার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার জন্য প্রতিবছরই শতাধিক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কানাডায় গিয়ে থাকে। কানাডায় বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যিক সকল কিচ্ছুই বাংলাদেশি অভিবাসী দ্বারা পালিত হয়ে থাকে।

প্রতিরক্ষা খাতে সহায়তা

কানাডা প্রায় $৯০,০১৮ মূল্যের ইলেকট্রনিক সামগ্রি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য রপ্তানি করেছে।[23] সেনাবাহিনী প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা প্রকল্প (মিলিটারি ট্রেনিং অ্যান্ড কোঅপারেশন প্রোগ্রাম বা এমটিসিপি) বাংলাদেশসহ এশীয়-প্রশান্ত অঞ্চলজুড়ে একাধিক প্রশিক্ষণ প্রকল্প পরিচালনা করে।[24]

তথ্যসূত্র

  1. Government of Canada, Foreign Affairs Trade and Development Canada। "Canada – Bangladesh Relations"। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ আগস্ট ২০১৭
  2. "Canada and Bangladesh: Beyond Rana Plaza – Centre for International Policy Studies"
  3. Canada, Government of Canada, Statistics। "2011 National Household Survey: Data tables – Ethnic Origin (264), Single and Multiple Ethnic Origin Responses (3), Generation Status (4), Age Groups (10) and Sex (3) for the Population in Private Households of Canada, Provinces, Territories, Census Metropolitan Areas and Census Agglomerations, 2011 National Household Survey"
  4. "Political Relations"। High Commission for Bangladesh, Canada।
  5. "Bangladesh-Canada Export-Import Statistics"। High Commission for Bangladesh, Canada।
  6. Government of Canada, Foreign Affairs Trade and Development Canada। "Fact Sheet"। ১৫ জুন ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৭
  7. Canada, Asia Pacific Foundation of। "Canada's Merchandise Trade with Bangladesh"
  8. Editorial, Reuters। "Canada seeks to increase exports to Bangladesh - trade official"
  9. Giles, David। "Deal signed to bring Saskatchewan potash to Bangladesh"
  10. "How Canada Welcomed Bangladeshi Clothing Imports"
  11. "Bangladeshi diaspora can attract more Canadian investment"। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১২।
  12. "Bangladesh's Exports to Canada: Part 1"
  13. "Trade Relations"। High Commission for Bangladesh, Canada।
  14. Sarker, Sujit (২০ মে ২০১৬)। "Bangladesh's bilateral trade with Canada crosses US$2b"। ২৪ জুন ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৭
  15. "Trade with Canada crosses $2b"। ২০ মে ২০১৬।
  16. "Bangladesh aims to boost trade with Canada to $5 billion by 2020"
  17. "Bangladesh to increase their two way trade with Canada to $5 billion by 2020"। ২৯ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৭
  18. "Bangladesh and Canada to look at reaching US $ 5 billion two-way trade by 2020 - Apparel Resources"। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫।
  19. "Canada for concerted efforts to boost trade with BD - - Samakal Online English Version"। ১১ জুন ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৭
  20. "Canada names Benoît-Pierre Laramée new High Commissioner to Bangladesh"
  21. "Hasina emphasises direct flights between Bangladesh and Canada"
  22. http://www.newstoday.com.bd, Hafez Ahmed @। "Canada for concerted efforts to boost trade with Bangladesh"
  23. "Report on Exports of Military Goods from Canada"Global Affairs Canada। জানুয়ারি ২১, ২০১১। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৫
  24. "Canada's Defence Relations in the Asia-Pacific Region"The Department of National Defence and the Canadian Armed Forces। নভেম্বর ২১, ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৫

বহিঃস্ংযোগ

This article is issued from Wikipedia. The text is licensed under Creative Commons - Attribution - Sharealike. Additional terms may apply for the media files.