পিয়াস করিম

অধ্যাপক মঞ্জুর করিম পিয়াস ( ১৯৫৮ - ১৩ অক্টোবর ২০১৪) যিনি পিয়াস করিম নামে বেশি পরিচিত ছিলেন একজন রাজনৈতিক অর্থনীতি, রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান, জাতীয়তাবাদ এবং সামাজিক তত্ত্বের বৈশিষ্টতার গবেষক এবং রাজনৈতিক ভাষ্যকার।[2][3][4] স্বাধীনতার পর, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেন। শিক্ষক হিসাবে তার দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি নেব্রাস্কা-লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয় , কালভার-স্টকটন কলেজ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।[4] করিম জাতীয়তাবাদ ও সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কিত বিভিন্ন বই এবং জার্নাল রচনা করেছিলেন।[4]

অধ্যাপক মঞ্জুর করিম পিয়াস

বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদ
জন্ম১৯৫৮ সাল
মৃত্যু১৩ অক্টোবর ২০১৪(2014-10-13) (বয়স ৫৫–৫৬)
জাতীয়তাবাংলাদেশী
অন্যান্য নামপিয়াস করিম
নাগরিকত্ববাংলাদেশ
শিক্ষাস্নাতক, স্নাতকোত্তর, পিএইচডি
যেখানের শিক্ষার্থীকুমিল্লা জিলা স্কুল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি
পেশাবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
নিয়োগকারীব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
পরিচিতির কারণটক শো ব্যাক্তিত্ব
আদি নিবাসঢাকা
দাম্পত্য সঙ্গীঅধ্যাপক ড. আমেনা মহসিন
পিতা-মাতাঅ্যাডভোকেট এম কে করিম (পিতা)
বাচ্চু (মাতা) [1]

প্রারম্ভিক ও শিক্ষাজীবন

পিয়াস ১৯৫৮ সালে বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার রামপুর গ্রামের জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা এম এ করিম আওয়ামী লীগের কুমিল্লা ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা কমিটির সদস্য ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ জেলা ইউনিটের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। [5] পিয়াস করিম কুমিল্লা আধুনিক স্কুল থেকে প্রাথমিক এবং কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন। তিনি ঢাকা আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। [6]

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে পিয়াস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। [3] ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পক্ষে লিফলেট বিতরণের জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। [7]

কর্মজীবন

পিয়াস মাস্টার্স এবং পিএইচডি সম্পন্ন করার পর, ১৭ বছর ধরে দুই আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। [4] তিনি স্নাতক সদস্য হিসাবে নেব্রাস্কা-লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। পরে, তিনি কয়েক বছর ধরে মিশরের কালভার-স্টকটন কলেজের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন। ২০০৭ সালে তিনি বাংলাদেশে ফিরে এসে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক পদে যোগ দেন। বাংলাদেশে, তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতি, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের ভূমিকা সম্পর্কিত বিভিন্ন নিবন্ধ লিখেছেন। [4]

ব্যক্তিগত জীবন এবং মৃত্যু

পিয়াস করিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. আমেনা মহসিনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার একমাত্র ছেলে ঢাকাতেই বসবাস করে। তিনি ১৩ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে ৫৬ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান। [6] নোবেল বিজয়ী এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার হঠাৎ মৃত্যুকে "নির্ভীক" নীতিগত বুদ্ধিজীবী হারালাম" বলে মন্তব্য করেন। [8]

তথ্যসূত্র

  1. "কে এই পিয়াস করিম"। দৈনিক জনকণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০১৯
  2. "বিবিসির এ সপ্তাহের সাক্ষাতকার পর্বে পিয়াস করিম"বিবিসি বাংলা। ২ জানুয়ারি ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০১৯
  3. "Piash Karim passes away"The Daily Star। অক্টোবর ১৪, ২০১৪।
  4. "Professor Piash Karim"BRAC University। অক্টোবর ১৪, ২০১৪।
  5. "Minister: Piash's father helped freedom fighters in 1971"Dhaka Tribune। অক্টোবর ১৪, ২০১৪।
  6. "Piash Karim passes away"New Age (Bangladesh)। অক্টোবর ১৪, ২০১৪।
  7. "Pakistan army detained Piash Karim for supporting war, says law minister"Bdnews24.com। অক্টোবর ১৯, ২০১৪।
  8. "Yunus mourns Piash Karim"Bdnews24.com। অক্টোবর ১৪, ২০১৪।
This article is issued from Wikipedia. The text is licensed under Creative Commons - Attribution - Sharealike. Additional terms may apply for the media files.