শেখ কামাল স্টেডিয়াম

শেখ কামাল স্টেডিয়াম, নীলফামারী ১৯৮৪ সালে নির্মিত[1] বাংলাদেশের একটি জেলা পর্যায়ের স্টেডিয়াম। স্টেডিয়ামটি নীলফামারী পৌরসভানীলফামারী সরকারি কলেজ রোডের পাশে অবস্থিত। এই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের জাতীয় দিবস সমূহে কুচকাওয়াচ, জেলার বিভিন্ন ক্রীড়া, বিশেষ করে ফুটবল ও ক্রিকেট[2] অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের অন্যান্য সকল ক্রীড়া ভেন্যুর মতই এই স্টেডিয়ামটি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধিভুক্ত[3] ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার তত্বাবধায়নে রয়েছে। ১২ নভেম্বর, ২০১৭ তারিখে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তক এই স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে 'নীলফামারী জেলা স্টেডিয়াম' হতে 'শেখ কামাল স্টেডিয়াম' করা হয়[4][5]

শেখ কামাল স্টেডিয়াম, নীলফামারী
শেখ কামাল স্টেডিয়াম, নীলফামারী
বাংলাদেশ মানচিত্রে স্টেডিয়ামের অবস্থান
প্রাক্তন নামনীলফামারী জেলা স্টেডিয়াম(১৯৮৪-২০১৭)
অবস্থানকলেজ রোড, নীলফামারী , বাংলাদেশ
স্থানাঙ্ক২৫°৫৫′৫৫.৩০″ উত্তর ৮৮°৫০′৪৪.১৯″ পূর্ব
মালিকজাতীয় ক্রীড়া পরিষদ
পরিচালকজেলা ক্রীড়া সংস্থা, নীলফামারী
নীলফামারী জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন
ধারণক্ষমতা২০,০০০
উপস্থিতির রেকর্ড২১,৩৫৯
মাঠের আয়তন১২৫ × ১২৫ মিটার (৪১০ × ৪১০ ফুট)
উপরিভাগপ্রাকৃতিক ঘাস, কিয়দাংশ কৃত্রিম ঘাস
নির্মাণ
নির্মিত১৯৮৪
উন্মোচন১৯৮৪
পুন: সংস্কারঅক্টোবর, ২০১৪- ডিসেম্বর, ২০১৭
নির্মাণ খরচসংস্কার খরচঃ প্রায় ১৪ কোটি ৭৯ হাজার টাকা
ভাড়াটিয়া

কাঠামো ও বৈশিষ্ট

স্টেডিয়ামের গ্যালারি কংক্রিট নির্মিত, প্যাভিলিয়ন রয়েছে। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন(এএফসি)-এর অনুদানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন(বাফুফে) স্টেডিয়ামের উত্তরাংশে একটি (৪০ মিটার লম্বা ও ২০ মিটার চওড়া)[6] কৃত্রিম ঘাসের মাঠ(মিনি আর্টিফিসিয়াল টার্ফ) স্থাপন করেছে।[7][8][9] বাংলাদেশে স্থাপন করা তৃতীয় এই আর্টিফিসিয়াল টার্ফ। অপর দুইটি টার্ফ রয়েছে মতিঝিলের আরামবাগে এবং বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের মাঠে[10]। প্যাভিলিয়নের তিন তালায় ৪৮ জন ক্রীড়াবিদের আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে[7]। সাংবাদিকদের জন্য একটি প্রেসবক্স রয়েছে[11]

আয়োজন

নিয়মিত আয়োজন

  • স্টেডিয়ামটিতে প্রতিবছর বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিজয় দিবসে কুচকাওয়াজ, শিশু সমাবেশ, শরীরচর্চা প্রদর্শনী এবং মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়[12][13]

উল্লেখযোগ্য আয়োজন

  • ৩০ এপ্রিল, ২০১৮ঃ এই ভেন্যুতে বাংলদেশ ফুটবল ফেডারেশনের উদ্যোগে 'জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ মহিলা জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০১৮’-এর নীলফামারী জোনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়।[14][15][16]

আন্তর্জাতিক আয়োজন

এই ভেন্যুতে হওয়া আন্তর্জাতিক ম্যাচের তালিকা নিম্নরূপঃ

তারিখ ম্যাচের ধরন অংশগ্রহণকারী দল মন্তব্য তথ্যসুত্র
০৮ জানুয়ারি, ২০১৬ ক্লাব প্রীতি ম্যাচ মালদা সোনালী অতীত ক্লাব

ও নীলফামারী সোনালী অতীত ক্লাব

প্রীতি ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। [17]
২৯ আগস্ট, ২০১৮ জাতীয় দলের ম্যাচ বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল

শ্রীলঙ্কা জাতীয় ফুটবল দল

এই ম্যাচটি এই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত প্রথম ফিফা আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ। [18][19]
২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ক্লাব প্রীতি ম্যাচ বসুন্ধরা কিংস

নিউ রেডিয়েন্ট ক্লাব, মালদ্বীপ

বসুন্ধরা কিংস ৪-১ গোলের জয়ী হয়। [1][20][21][22]

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ(ফুটবল) ভেন্যু

২৩ জানুয়ারি, ২০১৯ হতে এখানে নিয়মিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে[1][23]। এই ভেন্যুটি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের জনপ্রিয় ভেন্যু[24] এবং দল বসুন্ধরা কিংস এর হোমগ্রাউন্ড[7]। স্টেডিয়ামটি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ ফুটবল প্রতিযোগীতার চতুর্দশ ভেন্যু[1]

সংস্কার

অক্টোবর, ২০১৪ সালে স্টেডিয়ামটি চৌদ্দ কোটি উনআশি হাজার টাকা ব্যয়ে সংস্কার শুরু হয়, ডিসেম্বর, ২০১৭ তে সমাপ্ত হয়[9][25]। এই সংস্কার কার্যে ৭৫০ ফিট গ্যালারী বর্ধিত করণ, নতুন ভিআইপি স্ট্যান্ড তৈরী, মাঠ সমতল করণ ও নতুন ঘাস রোপন করা হয় এবং স্টেডিয়ামের ধারণ ক্ষমতা ২০,০০০-এ উন্নীত করা হয়।[1]

দর্শক ধারণ ক্ষমতা

স্টেডিয়ামটি সংস্কারের সময় এগারো ধাপ বিশিষ্ট গ্যালারি তৈরী হয়[9], ফলে দর্শক ধারণ ক্ষমতা ২০,০০০ এ উন্নীত করা হয়[1] তবে ২৯ আগস্ট ২০১৮ তারিখে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-শ্রীলংকা ম্যাচে ২১,৩৫৯টি টিকেট বিক্রি হয়[18], যা এখন পর্যন্ত এই স্টেডিয়ামের সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতার রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত।

আরো দেখুন

তথ্যসূত্র

  1. "Nilphamari set for stunning debut"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০১-২৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৫-২৮
  2. "ক্রিকেট লিগ"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-০১
  3. "অবকাঠামো | অন্যান্য সকল"জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৮-০৪
  4. "নীলফামারী জেলা স্টেডিয়ামের নতুন নামকরণ"archive1.ittefaq.com.bd। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৫-২৯
  5. "নীলফামারীর জেলা স্টেডিয়ামের নতুন নাম শেখ কামাল স্টেডিয়াম | banglatribune.com"Bangla Tribune। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-০১
  6. "দেশের সর্বপ্রথম নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়ামে মিনি ফুটবল টার্ফ উদ্ধোধন হলো"uttorbangla.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-১১
  7. "নতুন ভেনু নীলফামারী স্টেডিয়াম"দৈনিক নয়া দিগন্ত। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৫-২৮
  8. "এখন প্রাণচাঞ্চল্য নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়াম"somoynews.tv। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-৩০
  9. "নীলফামারী শেখ কামাল স্টেডিয়ামে ফুটবল টার্ফ উদ্বোধন || খেলা"জনকন্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-১১
  10. "কমলাপুর স্টেডিয়ামে সিনথেটিক টার্ফ বসছে এ বছরই"The Daily Sangram। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-১১
  11. "প্রেস বক্স পেল নীলফামারী শেখ কামাল স্টেডিয়াম"www.poriborton.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-২১
  12. "স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৫-২৯
  13. "নীলফামারীতে বিজয় দিবসে দিনব্যাপী কর্মসূচি"banglanews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৫-২৯
  14. "জেএফএ কাপের কো-স্পন্সর ওয়ালটন"The Daily Sangram। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-১৩
  15. "JFA Cup U-14 eves football begins today"Daily Sun (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-১৪
  16. "JFA cup U-14 women football begins tomorrow"Bangladesh Sangbad Sangstha (BSS) (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-১৪
  17. "ভারতের মালদা ও নীলফামারী প্রীতি ম্যাচ ড্র"jagonews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-১১
  18. "১ ঘণ্টায় শেষ বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের টিকিট"প্রথম আলো। ২৭ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৯ আগস্ট ২০১৮
  19. "আন্তর্জাতিক ম্যাচের আয়োজক হতে প্রস্তুত নীলফামারী"আরটিভি অনলাইন। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৫-২৮
  20. "আজ বসুন্ধরা কিংসের মুখোমুখি রেডিয়েন্ট"কালের কণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৫-২৮
  21. "নীলফামারীতে খেলবে মালদ্বীপের চ্যাম্পিয়নরা"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৫-২৮
  22. "নিউ রেডিয়েন্ট ক্লাবকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে বসুন্ধরা কিংস"bd24report.com। ২০১৮-০৯-২২। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৫-২৮
  23. "নীলফামারীতে আজ 'বারুদে উত্তাপ' ফুটবল"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-৩০
  24. "দর্শকে টইটম্বুর নীলফামারী শেখ কামাল স্টেডিয়াম | কালের কণ্ঠ"Kalerkantho। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৮-২৫
  25. "আধুনিকায়নের পর নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়াম মাঠে ১ম বারের মত খেলা গড়াচ্ছে আজ"নীলফামারী নিউজ। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-০৮

বহিঃসংযোগ

This article is issued from Wikipedia. The text is licensed under Creative Commons - Attribution - Sharealike. Additional terms may apply for the media files.