চিত্রা শালিক

চিত্রা শালিক বা পাতি কাঠশালিক (বৈজ্ঞানিক নাম: Sturnus vulgaris, ইংরেজি: Common Starling) স্টারনিডি পরিবারভূক্ত মাঝারি আকৃতির গায়ক পাখি। ২০ সেন্টিমিটার লম্বাটে এ পাখির গায়ে ছিটছিটে কালচে পালক রয়েছে। বছরের কোন কোন সময়ে এটি খানিকটা সাদা রঙের হয়। এদের পা গোলাপী বর্ণের এবং শীতকালে এদের চঞ্চু কাল ও গ্রীষ্মকালে হলদে বর্ণের হয়ে থাকে। পূর্ণবয়স্ক পাখির তুলনায় ছোট্ট শাবকের পালক কিছুটা বাদামী বর্ণের। গায়ক পাখি হিসেবে বিশ্বব্যাপী এর যথেষ্ট পরিচিতি রয়েছে। দলবদ্ধভাবে থাকতে এরা পছন্দ করে।

চিত্রা শালিক
Sturnus vulgaris

ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত  (আইইউসিএন ৩.১)[1]
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Animalia
পর্ব: কর্ডাটা
শ্রেণী: পক্ষী
বর্গ: Passeriformes
পরিবার: Sturnidae
গণ: Sturnus
প্রজাতি: S. vulgaris
দ্বিপদী নাম
Sturnus vulgaris
Linnaeus, 1758
আদি নিবাসী:        গ্রীষ্মকালীন পরিযায়ী (প্রজনন)        স্থায়ী        শীতকালীন পরিযায়ী
অবমুক্ত:        গ্রীষ্মকালীন পরিযায়ী (প্রজনন)        স্থায়ী
Sturnus vulgaris

বিভিন্ন ধরনের স্তন্যপায়ী প্রাণী, শিকারী পাখির কবলে পড়ে ধীরে ধীরে এদের আবাসস্থলগুলো সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। উত্তর ও পশ্চিম ইউরোপে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় তৃণভূমির স্বল্পতাজনিত কারণে ধীরে ধীরে এ পাখির সংখ্যা কমছে। তা স্বত্ত্বেও ব্যাপক সংখ্যায় চিত্রা শালিকের দেখা যাবার প্রেক্ষিতে আই.ইউ.সি.এনপ্রজাতিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে। বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনানুসারে রক্ষিত বন্যপ্রাণীর তালিকায় তফসিল-১ অনুযায়ী এ প্রজাতি সংরক্ষিত।[2]

বিবরণ

চিত্রা শালিকের প্রায় এক ডজন উপপ্রজাতি রয়েছে। ইউরোপপশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোয় এ পাখির প্রধান বিচরণক্ষেত্র। এছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশে এ পাখির দেখা মেলে। দক্ষিণ ও পশ্চিম ইউরোপ এবং দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোয় এ পাখির প্রাচীন উৎপত্তি স্থলরূপে বিবেচিত। পরিযায়ী পাখি হিসেবে চিত্রা শালিক শীত মৌসুমে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এসে থাকে। সাদাসিধে বাসা বাধে।

প্রজনন

ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে চিত্রা শালিক সচরাচর প্রতিবৎসর মে-জুন মাসে এক থেকে দুইবার ডিম প্রসব করে। ঘরের চালের ফাঁক, সিলিং, কাঠঠোকরার কোটরে অগোছালোভাবে পাতা, খড়, শুকনো ঘাস দিয়ে বাসা তৈরি করে। প্রজনন মৌসুমে এরা বদরাগী হয়ে যেতে পারে। চার থেকে পাঁচটি নীলচে রঙের ডিম পাড়ে। প্রায় দুই সপ্তাহ ডিমে তা দেয়।[3] বাচ্চাগুলো পরবর্তীতে আরো তিন সপ্তাহ বাসায় অবস্থান করে।

খাদ্যাভ্যাস

মূলতঃ চিত্রা শালিক পোকামাকড় খেতেই বেশি অভ্যস্ত। উল্লেখযোগ্য হারে মাকড়শা, মথ, ঘাসফড়িং, মৌমাছি, পিঁপড়া ইত্যাদি কীট-পতঙ্গ ভক্ষণে অভ্যস্ত হওয়ায় কৃষকের উপকার করে থাকে। এছাড়াও অনেকসময় কেঁচো, শামুকসহ ব্যাঙ, টিকটিকিজাতীয় ছোট্ট আকৃতির মেরুদণ্ডী প্রাণীও শিকার করে জীবনধারন করে।[4] সর্বভূক প্রাণী হিসেবে ফলমূল, অঙ্কুরিত বীজ, নোংরা-আবর্জনা থেকেও এরা খাদ্য সংগ্রহ করে।[5][6][7] আঙ্গুর, চেরিজাতীয় ফলও সুযোগ পেলে গিলে ফেলে।[8] রোপিত বীজ ভক্ষন করায় অনেক সময় এরা কৃষকের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতিমাত্রায় কিচির-মিচির করায় পরিবেশে শব্দদূষণের পরিবেশ সৃষ্টি করে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় সীমিত আকারে এদের নিয়ন্ত্রণ করা গেছে।

তথ্যসূত্র

  1. BirdLife International (২০১২)। "Sturnus vulgaris"বিপদগ্রস্ত প্রজাতির আইইউসিএন লাল তালিকা। সংস্করণ 2012.1প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০১-০৯
  2. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, জুলাই ১০ ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা- ১১৮৪৭৯
  3. "বিরল পাতি কাঠশালিক: Reports"prothom-alo.com। ফেব্রুয়ারি ০১, ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ০১, ২০১৫ এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  4. Adeney, J M (2001). "European Starling (Sturnus vulgaris)". Introduced Species Summary Project. Columbia University. Retrieved 2013-01-01.
  5. Higgins et al. (2006) pp. 1907–1914.
  6. "The Starling in the Sunraysia District, Victoria. Part I". Emu 57 (1): 31–48.
  7. "Kirkpatrick, Win; Woolnough, Andrew P (2007). "Common Starling". Pestnote. Department of Agriculture and Food Australia." (PDF)। ২৩ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জানুয়ারি ২০১৩
  8. "British Veterinary Association Animal Welfare Foundation/Fund for the Replacement of Animals in Medical Experiments/Royal Society for the Prevention of Cruelty to Animals/Universities Federation for Animal Welfare Joint Working Group on Refinement (2001). "The starling, Sturnus vulgaris". Laboratory Animals 35 (Supplement 1: Laboratory birds: refinements in husbandry and procedures): 120–126." (PDF)। ৩ মার্চ ২০১৩ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জানুয়ারি ২০১৩
This article is issued from Wikipedia. The text is licensed under Creative Commons - Attribution - Sharealike. Additional terms may apply for the media files.