বুচনা জাল

বুচনা জাল (ইংরেজিতে Fyke net) মাছ ধরার এক ধরনের ফাঁদ। বাঁশের তৈরি মাছ ধরা ফাঁদ বুচনার মতো দেখতে তাই এটি বুচনা জাল হিসেবে পরিচিত। বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরি বুচনার বিপরীতে জেলেরা এর ব্যবহার করে থাকে। এছাড়া হাতে বোনা জাল ও বাঁশের কঞ্চিতে তৈরি চাকতির ব্যবহার রয়েছে বলে এটিকে চাক জাল ও কিছু অঞ্চলে টোনা জাল নামেও পরিচিত। [1]

বিবরণ

সূতা আর বাঁশের কঞ্চি দিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় এ জাল তৈরি করা হয়। দেশিয় প্রজাতির ছোট মাছ ধরার জন্যে বাঁশের তৈরি ফাঁদ চাঁইয়ের ব্যবহার কমে যাওয়ার পর থেকে জেলেরা বুচনা জালের দিকে ঝুঁকেছেন। বাঁশের তৈরি বুচনার বিপরীতে বর্ষা মৌসুমে উপকূলীয় অঞ্চলের ধানখেতে ও ছোট নালা থেকে বুচনা জাল দিয়ে চিংড়িসহ দেশিয় প্রজাতির মাছ ধরা হয়। এ জালটি সাধারণত মৌসুমী জেলেদের কাছে জনপ্রিয়। [1][2] উৎপাদন সমস্যায় উপকূলীয় অঞ্চলে বাঁশের সংকট বেড়েছে। তাই বাঁশ দিয়ে তৈরি মাছ ধরার বিভিন্ন ফাঁদের বিপরীতে বুচনা জাল জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বুচনা জাল দিয়ে মিঠা পানিতে বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরা ও বহনকরা সহজ। তাই জেলেরা জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণভাদ্র এ ৪ মাস এটি দিয়ে দেশিয় মাছ ধরে থাকে। [3] মাছ ধরার সহজ মাধ্যম হিসেবে উপকূলীয় গ্রামাঞ্চলে এটিকে সহজ মাধ্যম হিসেবে ধরা হয়। এতে মাছ আহরণকারী জেলের পরিশ্রম কম হয় তবে কৌশলী হতে হয়। [4]

ইতিহাস

ছোটাকৃতির বুচনা জাল আবার বোডা জাল হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় কৃষক ও মাছ আহরণকারী জেলেরা নিজস্ব মেধা ও শ্রম দিয়ে এর উদ্ভাবন করেছে। এসব জাল নাইলন সুতা ও বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরি হয়। একদশক আগেও গ্রামাঞ্চলে বর্ষাকালে ধানক্ষেত ও নালায় মাছশিকারিরা বাঁশের তৈরি চাঁই দিয়ে মাছ ধরতো। উপকূলীয় এলাকায় বাঁশের দাম বৃদ্ধিতে চাঁইয়ের বিপরীতে এটি বাণিজ্যিকভাবে তৈরি হয়েছে। এতে বাঁশের ব্যবহার কম তাই খরচও কম। বাঁশের তৈরি চাঁইয়ের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শুধু বাঁশের পরিবর্তে সুতার জাল ব্যবহার করে এটি তৈরি করা সম্ভব। বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশের মঠবাড়িয়ায় অর্ধশত কৃষক পরিবার বর্ষা মৌসুমে চাক জাল বা বোডা জাল তৈরি করে লাভবান হয়েছে। এ অঞ্চলের নরীরা অবসর সময়ে ঘরে বসে বুচনা জাল তৈরি করেন। একজন শ্রমিক প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিনটি জাল তৈরি করতে পারেন। [5]

ব্যবহার পদ্ধতি

বর্ষা কালে উপকূলীয় ধান চাষের জমি ও চরাঞ্চলের নালায় মৎস্য শিকারীরা বাঁশের তৈরি চাইয়ের বিপরীতে এটি সাধারণ প্রবাহমান পানির স্রোতধারায় বসিয়ে থাকেন। এটি প্রথমে স্রোতধারাকে অনুসরণ লম্বালম্বিভাবে পাতানো হয়। জালটি পানিতে মেলে ধরতে বাঁশের চাকতির সাহায্য নেয়া হয়। এ ফাঁদটি কতক্ষণ পানিতে রাখতে হয় তার উপকূলের জোয়ার ভাটার ওপর নির্ভর করে। গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষ বোডা জাল দিয়ে মাছ ধরতে অভ্যস্ত। এ পদ্ধতিতে পুরো বর্ষা মৌসুমে চিংড়িসহ দেশিয় প্রজাতির বিভিন্ন ছোটাকৃতির মাছ ধরা হয়।[5]

চিত্রশালা

আরো দেখুন

তথ্যসূত্র

  1. "বর্ষায় জনপ্রিয় চাক জাল"জাগো নিউজ। ১৬ জুলাই ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২ জুন ২০১৯
  2. "বুচনা জাল দেশী মাছ শিকারের নতুন ফাঁদ"দৈনিক নয়া দিগন্ত। ৮ জুলাই ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২ জুন ২০১৯
  3. "নিষিদ্ধ 'বুচনা জাল' দেশি মাছ শিকারের নতুন ফাঁদ"দৈনিক ভোরের কাগজ। ছাপা সংস্করণ। ৮ জুলাই ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২ জুন ২০১৯
  4. "এখনো জনপ্রিয় চাই-বুচনা"ভাষা- বাংলাবাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। ১৬ আগস্ট ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুন ২০১৯
  5. "মাছ শিকারের নতুন ফাঁদ চাক জাল"দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ। ২২ জুন ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুন ২০১৯
This article is issued from Wikipedia. The text is licensed under Creative Commons - Attribution - Sharealike. Additional terms may apply for the media files.