এ এম রিয়াছাত আলী বিশ্বাস
এ.এম. রিয়াছাত আলী ( ১৯ জানুয়ারি ১৯৩২ - ১০ মার্চ ২০১৬) ছিলেন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ এবং পঞ্চম ও অষ্টম জাতীয় সংসদের সদস্য। তিনি ১৯৯১ সালে পঞ্চম ও ২০০১ অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা-৩ আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[1]
এ.এম. রিয়াছাত আলী বিশ্বাস | |
---|---|
![]() | |
সাতক্ষীরা ৩ আসনের সংসদ সদস্য | |
কাজের মেয়াদ ১ অক্টোবর ২০০১ – অক্টোবর ২০০৬ | |
পূর্বসূরী | ডাঃ এস. এম. মোখলেছুর রহমান |
উত্তরসূরী | আ. ফ. ম. রুহুল হক |
কাজের মেয়াদ ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ – ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ | |
পূর্বসূরী | ছালাহ উদ্দীন সরদার |
উত্তরসূরী | আলী আহম্মেদ |
ব্যক্তিগত বিবরণ | |
জন্ম | আশাশুনি উপজেলা, সাতক্ষীরা জেলা | ১৯ জানুয়ারি ১৯৩২
মৃত্যু | মার্চ ১০, ২০১৬ ৮৪) | (বয়স
রাজনৈতিক দল | বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী |
দাম্পত্য সঙ্গী | রাবেয়া সুলতানা |
পেশা | অধ্যাপক, রাজনীতিবিদ |
ধর্ম | ইসলাম |
প্রারম্ভিক জীবন
রিয়াছাত আলী ১৯৩২ সালের ১৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া গ্রামে জন্মগ্ৰহণ করেন।[2] তার পিতার নাম মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস এবং মাতার নাম রাহিলা খাতুন। নিজ গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে রিয়াছাত পাতাখালী মাদরাসা থেকে ১৯৪৬ সালে অষ্টম ও ১৯৪৮ সালে দাখিল পাস করেন। বাগেরহাটের সোনাতুনিয়া ফাজিল মাদরাসা থেকে আলিম এবং ফাজিল শেষ করেন। পিরোজপুরের নেছারাবাদের সারসিনা দারুসুন্নাত কামিল মাদরাসা থেকে ১৯৫৪ সালে হাদিসের ওপর কামিল ডিগ্ৰি অর্জন করেন।
অধ্যাপনা
রিয়াছাত আলী প্রতাপনগর ফাজিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ (১৯৫৮-১৯৬৪) হিসাবে তার কর্ম জীবন শুরু করেন। এরপর ঘুগরাকাটি ফাজিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল (১৯৬৫-১৯৬৮) এবং প্রতাপনগর হাইস্কুলের ইংরেজি শিক্ষক (১৯৬৮-১৯৭১) ও ঘুগরাকাটি ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ (১৯৭৩-১৯৭৭) হিসাবে দায়িত্ব পালন শেষে আবার প্রতাপনগর ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯৭৭-১৯৯৩)।[2]
রাজনৈতিক জীবন
রিয়াছাত আলী ১৯৫৮ ও ১৯৬৩ সালে প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি রাষ্ট্রীয় স্বর্ণ পদক লাভ করেন।[3]
তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শূরা সদস্য (সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটি) ছিলেন।[2]
তিনি ১৯৯১ সালে পঞ্চম[4] ও ২০০১ অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলা, দেবহাটা উপজেলা, চাম্পাফুল ইউনিয়ন, ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন, তাতালী ইউনিয়ন, নলতা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-৩ আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[5] তবে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী আ. ফ. ম. রুহুল হকের কাছে পরাজিত হন।[6] প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বস্ত্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হওয়ার পর অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এসময় তিনি এলিট ফোর্স র্যাব গঠনের অন্যতম প্রস্তাবক ছিলেন।[3]
মনবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শান্তি কমিটির সদস্য হিসেবে রিয়াছাত আলীর বিরুদ্ধে মনবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।[7]
মৃত্যু
২০১৬ সালের ১০ মার্চ বৃহস্পতিবার বেলা ১০টা ৫৮ মিনিটে ৮৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।[2]
তথ্যসূত্র
- "সাতক্ষীরায় প্রচারণায় ব্যস্ত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা"। ইত্তেফাক। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০১৯।
- "সাতক্ষীরা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা এ এম রিয়াছাত আলী বিশ্বাস আর নেই"। দৈনিক সংগ্রাম। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০১৯।
- "লাখো জনতার অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় জননেতা মাওলানা রিয়াছাত আলীর দাফন সম্পন্ন"। সাপ্তাহিক সোনার বাংলা। সংগ্রহের তারিখ ৮ মার্চ ২০১৯।
- "৫ম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা" (PDF)। জাতীয় সংসদ। বাংলাদেশ সরকার। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা।
- "৮ম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা" (PDF)। জাতীয় সংসদ। বাংলাদেশ সরকার। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা।
- "সাতক্ষীরা-৩"। প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০১৯।
- "যে কারণে ঢাকায় বিএনপির ভরাডুবি"। ডিডব্লিউ। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০১৯।