খিলা গোপীমোহন শিক্ষা সদন

খিলা গোপীমোহন শিক্ষা সদন পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার উদয়নারায়ণপুর ব্লকের একটি উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৪৮ সালে বাঙালি উদ্যোগপতি আলামোহন দাশ এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত করেন। [1] ১৯৪৮ সালে বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি এই অঞ্চলের অন্যতম সেরা স্কুল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি এই স্কুলে তার শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করেছেন। স্বাধীনতা সময় থেকে এখন পর্যন্ত 'গোপীমোহন শিক্ষা সদন' অনন্য আবেদন ও পরিচয়ের অধিকারী। হাওড়া জেলার হাওড়া - উদয়নারায়ণপুর সড়কের পাশে খিলা অঞ্চলে অবস্থিত। স্কুলটি প্রভাতী ও দিবা এই দুই শাখায় বিভক্ত। স্কুলটিতে প্রথম থেকে দাদ্বশ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা দেয়া হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের দিক দিয়ে, এই স্কুলটি বেশ কয়েক বছর ধরে হাওড়া জেলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে এবং হাওড়া জেলাতে স্কুলটির ফলাফল, আভিজাত্য ও সাংস্কৃতিক কার্যাবলির অনবদ্য সুনাম রয়েছে। স্কুলটিতে প্রায় ১৫০০ শিক্ষার্থী পঠন পাঠন করে।[2]

খিলা গোপীমোহন শিক্ষা সদন
খিলা গোপীমোহন শিক্ষা সদন
অবস্থান
খিলা, উদয়নারায়ণপুর ব্লক, হাওড়া, পশ্চিমবঙ্গ
ভারত
তথ্য
ধরনমাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক
প্রতিষ্ঠাকাল১৯৪৮
আলামোহন দাশ
অধ্যক্ষশ্রী অসীম কুমার অধিকারী
শিক্ষার্থী সংখ্যা১৫০০(প্রায়)
ক্যাম্পাসমোটামুটি১০ একর (৪০,০০০ মি)
ডাকনামKGMSS

বর্তমান অবস্থা

প্রাথমিকভাবে এই স্কুলটি পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের অধীনে নিয়ন্ত্রিত। এই বিদ্যালয়ে দুটি শিফট ছিল। কিন্তু ১৯১৩ সাল থেকে প্রাথমিক স্কুলটি বিভক্ত হয়। বর্তমানে স্কুলটিতে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত এবং পঞ্চম থেকে দাদ্বশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো হয়। পঞ্চম থেকে দাদ্বশ শ্রেণী পর্যন্ত প্রত্যেক শ্রেণীতে দুইটি,তিনটি শাখা বিদ্যমান। বর্তমানে স্কুলটিতে প্রায় ১৫০০ শিক্ষার্থী এবং ৪৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন।[3]

শিক্ষা খরচ

বিদ্যালয়ের বেতন পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রদান করে থাকে। ছাত্র, ছাত্রীদের কাছ থেকে সাধারনত উন্নয়ন ফি বার্ষিক হিসাবে নেয়া হয়। এছাড়া কম্পিউটার শিক্ষা ও বৈদ্যুতের জন্য বাড়তি টাকা প্রদান করতে হয়। উল্লেখ্য একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে তাতে সমস্ত ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

ইউনিফর্ম

স্কুলের ইউনিফর্ম হল সাদা শার্ট, নীল প্যান্ট ও কালো জুতো। এছাড়া শীতকালে নীল রঙের সোয়েটারও ইউনিফর্মের অন্তর্ভুক্ত। শার্টে বিদ্যালয়ের মনোগ্রাম সংবলিত ব্যাজ থাকে।

ফলাফল

ভর্তি

সাধারণত শিক্ষার্থীরা পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ লাভ করে। অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যোগ্য ছাত্রদের নির্বাচিত করা হয়। ভর্তি পরীক্ষায় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এই ভর্তি পরীক্ষা ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষা সুবিধাসমূহ

এই বিদ্যালয়ে বিজ্ঞানাগার, একটি লাইব্রেরী, একটি কম্পিউটার ল্যাবরেটরি, একটি কর্মশালা কক্ষ রয়েছে। পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও জীববিদ্যার প্রায়োগিক পাঠসমূহ সাধারণত বিজ্ঞানাগারে পড়ানো হয়। বিদ্যালয়ে একটি ঘাট বাঁধানো পুকুর রয়েছে। বিদ্যালয়ের নিচে একটি মঞ্চ আছে যেখানে সভা, সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজিত হয় এবং প্রতি বছর ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

সহশিক্ষা কর্মসূচী

খেলাধুলা (ভলিবল,খোখো, অ্যাথলেটিক্স,ক্রিকেটফুটবল), সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বার্ষিক উৎসব ও ভাষা প্রতিযোগ, বিজ্ঞান মেলা ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয়।

বিশিষ্ট প্রাক্তনী

তথ্যসূত্র

  1. "Statistical Reports of Elections"General Election Results and Statistics। Election Commission of India। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-১১-২৫
  2. "খিলা গোপীমোহন শিক্ষা সদন"। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৮
  3. "খিলা গোপীমোহন শিক্ষা সদন"। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৮
This article is issued from Wikipedia. The text is licensed under Creative Commons - Attribution - Sharealike. Additional terms may apply for the media files.