প্রাগৈতিহাসিক ধর্ম

প্রাগৈতিহাসিক ধর্ম বলতে প্রাগৈতিহাসিক মানব সমাজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ধর্মাচরণকে বোঝায়। বিশেষত প্রাচীন প্রস্তরযুগীয় ধর্ম, মধ্য প্রস্তরযুগীয় ধর্ম, নব্য প্রস্তরযুগীয় ধর্মব্রোঞ্জ যুগীয় ধর্মকে প্রাগৈতিহাসিক ধর্ম বলা হয়।

ধর্মের ইতিহাস
ধর্মপ্রবর্তক

নৃতত্ত্ব
তুলনামূলক ধর্ম
স্নায়ুধর্মতত্ত্ব / ঈশ্বর জিন
উৎস
মনোবিজ্ঞান

প্রাগৈতিহাসিক
প্রাচীন নিকট প্রাচ্য
  প্রাচীন মিশরীয়
  সেমিটিক
ইন্দো-ইউরোপীয়
  বৈদিক হিন্দুধর্ম
  গ্রিকো-রোমান
  সেলটিক   জার্মানিক
কেন্দ্রীয় যুগ
  বেদান্ত   শ্রমণ
  ভারতীয় দর্শনে ধর্ম   তাও
  হেলেনীয় ধর্ম
  অদ্বয়বাদ   দ্বৈতবাদ
  একেশ্বরবাদ
খ্রিস্টীয়করণ
হিন্দু-বৌদ্ধ ভারতীয়করণ
ইসলামিকরণ
রেনেসাঁ  খ্রিস্টধর্ম সংস্কার আন্দোলন
যুক্তিবাদের যুগ
নব্য ধর্মীয় আন্দোলন
  মহাজাগরণ
  মৌলবাদ
  নবযুগ আন্দোলন
উত্তর-আধুনিকতাবাদ

আব্রাহামীয়
  ইহুদি ধর্ম
  খ্রিস্টধর্ম
  ইসলাম
  বাহাই মতবাদ
ভারতীয়
  হিন্দুধর্ম
  বৌদ্ধধর্ম
  জৈনধর্ম
  শিখধর্ম
দূরপ্রাচ্য
  তাওধর্ম
  কনফুসিয়ান
  শিন্টো
নব্যপ্যাগান
  উইক্কা

প্রাচীন প্রস্তরযুগ

পারলৌকিক ক্রিয়ার সামগ্রী সহ কবর দেওয়ার প্রথাই সম্ভবত প্রথম ধর্মব্যবস্থার নিদর্শন (কবর দেওয়ার প্রথা আজকের পৃথিবীতেও সর্বাধিক পরিচিত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া)। ফিলিপ লিবারম্যানের মতে, এটি “দৈনন্দিন জীবনে মৃতের পুনর্জাগরণ” ধারণার পরিচায়ক।[1]

ফ্রান্সের ডরডঙে পাওয়া একটি প্রাচীন প্রস্তরযুগীয় গুহাচিত্র। এটিতে একটি নরপশুর আকৃতিবিশিষ্ট জীবের ছবি দেখা যায়। পুরাতাত্ত্বিকদের মতে এটি প্রাগৈতিহাসিক আদিবাসী ধর্মের প্রমাণ।

অনেক পুরাতাত্ত্বিকের মতে মধ্য প্রস্তরযুগীয় সমাজে এবং নিয়ান্ডারথাল সমাজে টোটেমবাদপশুপূজার কিছু প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া যায়। এমিল বাচলার মধ্য প্রস্তরযুগীয় গুহাগুলির পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনের ভিত্তিতে বিশেষভাবে ওই সময়কার নিয়ান্ডারথাল ভাল্লুক পূজা সংস্কৃতির অস্তিত্বের কথা বলেছেন। আফ্রিকার কালাহারি মরুভূমিতে খ্রিস্টপূর্ব ৭০,০০০ অব্দের একটি মধ্য প্রস্তরযুগীয় পশুপূজন সংস্কৃতির কিছু নিদর্শন পাওয়া যায়। তবে ওই পুরাক্ষেত্রের অনুসন্ধানকারীরা ওই ধরনের সংস্কৃতির কথা অস্বীকার করেছেন।[2][3] ভাল্লুক পূজা জাতীয় উচ্চ প্রাচীন প্রস্তরযুগীয় পর্যায়ের পশুপূজন সংস্কৃতির উৎস সম্ভবত এই সাম্ভব্য মধ্য প্রাচীন প্রস্তরযুগীয় পশুপূজন সংস্কৃতির মধ্যে নিহিত আছে।[4]

উচ্চ প্রাচীন প্রস্তরযুগীয় সমাজে পশুপূজার সঙ্গে মানুষের ক্রিয়াকলাপের যোগ ছিল।[4] উদাহরণস্বরূপ, ভাল্লুক পূজা সংস্কৃতির যে শিল্পকর্ম ও ভাল্লুকের দেবাবশেষ-সংক্রান্ত পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া যায়, তার থেকে বোঝা যায়, এই অনুষ্ঠানে একটি ভাল্লুককে তীর মারা হত। তারপর তাকে হত্যা করা হত ফুসফুস লক্ষ্য করে তীর মেরে। শেষে নিহত ভাল্লুকটির চামড়ায় মোড়া একটি মাটির ভাল্লুকের মূর্তির কাছে নিহত ভাল্লুকটির মাথার খুলি ও দেহ আলাদা করে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হত।[4]

নব্য প্রস্তরযুগীয় ধর্ম

নব্য প্রস্তরযুগ ব্রোঞ্জ যুগের সবচেয়ে নিকটবর্তী সময়। এই সময়কার ধর্ম সম্পর্কে কোনো সাহিত্যিক উপাদান পাওয়া যায় না। তাই নব্য প্রস্তরযুগীয় ধর্ম সম্পর্কে জানতে পুরাতত্ত্বের উপরেই নির্ভর করতে হয়।

জ্যাক কভিনের মতে, নব্য প্রস্তরযুগীয় বিপ্লব ছিল "প্রতীকী বিপ্লব" নামে চিহ্নিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণার দ্বারা প্রভাবিত। তার মতে "ধর্মে"র জন্ম হয়েছিল নব্য প্রস্তরযুগে। তিনি বলেছেন, নব্য প্রস্তরযুগের মানুষের চিন্তাভাবনার একটি পরিবর্তন এসেছিল পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে। এই পরিবর্তনের একাধিক স্তর দেখা যায়।[5] এই যুগের প্রাপ্ত মূর্তিগুলি দেখিয়ে তিনি বলছেন দেবীপূজা ও ষাঁড়ের পূজার ধারণাটি এই যুগের অবদান। দর্শন ও দ্বৈতসত্ত্বার ক্রমবিবর্তনের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ধারণাও এযুগের অবদান।[6]

খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম সহস্রাব্দে মধ্য ইউরোপে নির্মিত সার্কুলার এনক্লোজারস নামে পরিচিত নির্মাণগুলিকে ধর্মীয় ক্রিয়াকর্মের স্থান মনে করা হয়। গসেক সার্কেলে নরবলির চিহ্ন পাওয়া যায়। এই ধরনের অনেক নির্মাণের প্রবেশপথটির সঙ্গে উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়ণ সংক্রান্তির সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সঙ্গে এক রেখায় নিবদ্ধ। এর থেকে বোঝা যায় সেই সময় একটি চান্দ্রসৌর পঞ্জিকা অনুসরণ করা হত। খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম সহস্রাব্দে ইউরোপে নির্মিত মেগালিথিক স্থাপত্যগুলির নির্মাণ শুরু হয়েছিল। সমগ্র নব্য প্রস্তরযুগ এবং ব্রোঞ্জ যুগের প্রথম দিক পর্যন্ত এই ধরনের স্থাপত্য নির্মিত হয়েছিল।

নারীবাদী পুরাতত্ত্বের পুরোধা ব্যক্তিত্ব মারিজা গিমবুটাসের মতে, নব্য প্রস্তরযুগীয় ইউরোপে "দেবীপূজা" কেন্দ্রিক একটি "নারীকেন্দ্রিক" সমাজ গড়ে উঠেছিল। ব্রোঞ্জ যুগের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে এই মাতৃতান্ত্রিক সমাজকে প্রতিস্থাপন করে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে গিমবুটাসের মত আজকের যুগে বহুল সমর্থন পায় না।[7]

ব্রোঞ্জ যুগ

পুনর্নির্মাণ

প্রাচীন ব্রোঞ্জ যুগীয় প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপীয় ধর্ম (যেটি পুনর্নির্মিত) এবং প্রমাণিত প্রাচীন সেমিটিক দেবদেবীরা ছিলেন পরবর্তী প্রাচীন প্রস্তরযুগীয় ধর্মেরই কিছু কিছু প্রথার অনুবর্তন।

পুরাতত্ত্ব

ব্রোঞ্জ যুগীয় ইউরোপ

সৌর বজরার ছবি, বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া সৌর ক্রুশ, ব্রোঞ্জের কুঠারের ভাণ্ডার, পরবর্তীকালের কাস্তে, তথাকথিত চন্দ্র মূর্তি, বিরাট সোনার টুপি, নেব্রা আকাশ-চাকতি, টুমুলাসের কবরখানা এবং আর্নফিল্ড সংস্কৃতির শবদাহের স্থান থেকে অনুমান করা হয় ব্রোঞ্জ যুগীয় ইউরোপে ধর্মের অস্তিত্ব ছিল।

লৌহ যুগ

ভূমধ্যসাগর, নিকট প্রাচ্য, ভারতচীনে যখন লৌহ যুগের প্রমাণ পাওয়া যায়, অধিকাংশ লৌহযুগীয় ইউরোপ (খ্রিস্টপূর্ব ৭০০ অব্দ থেকে অনুপ্রবেশ পর্যায় পর্যন্ত)) পড়ে প্রাগৈতিহাসিক পর্বে। হেলেনীয় ও রোমান যুগীয় জাতিবিজ্ঞান গ্রন্থগুলিতে অ-ভুমধ্যসাগরীয় ধর্মব্যবস্থাগুলির বর্ণনা কমই পাওয়া যায়।

  • সিথিয়ান পুরাণ (হেরোডোটাস)
  • কেলটিক বহুদেববাদ (পসিডোনিয়াস)
  • প্যালিও-বলকান পুরাণ
  • জার্মানিক বহুদেববাদ (ট্যাকিটাস)
  • স্লেভিক বহুদেববাদ (প্রোসোপিয়াস)
  • তুর্কি ও মোঙ্গোলিয়ান জাতির পুরাণ

মেরুদেশীয় ধর্মগুলি (সাইবেরিয়ার পশুপূজন ধর্ম, ফিনিক পুরাণ) ঐতিহ্যবাহী আফ্রিকান ধর্ম, আমেরিকান আদিবাসী ধর্মপ্রশান্ত মহাসাগরীয় ধর্মসমূহের ক্ষেত্রে প্রাগৈতিহাসিক যুগ শেষ হয়েছে আধুনিক যুগের প্রথম পর্ব ও ইউরোপীয় উপনিবেশের যুগে। এই ধর্মগুলির অধিকাংশই প্রথম বর্ণিত হয়েছে খ্রিস্টীয়করণের প্রেক্ষাপটে।

আরও দেখুন

  • পূর্বপুরুষ উপাসনা
  • ধর্মের নৃতত্ত্ব
  • ভাল্লুজ পূজা
  • ষাঁড় পূজা
  • চক্রাকার খাল
    • গোসেক চক্র
  • ধর্মের বিকাশ
  • অগ্নি উপাসনা
  • গোবেকলি টেপ
  • হেঞ্জ
  • অশ্ব বলিদান
  • মাতৃতান্ত্রিক ধর্ম
  • মেগালিথিক সমাধি
    • টুমুলাস
  • চন্দ্র উপাসনা
  • মাতৃকা দেবী
  • প্রাচীন নিকট প্রাচ্যের ধর্মসমূহ
  • স্যাক্রাল কিং
  • সূর্য উপাসনা
  • টারজিয়ান মন্দির
  • আরমোনোথেইসমাস

টীকা

  1. ^ Christopher L. C. E. Witcombe, "Women in the Stone Age," in the essay "The Venus of Willendorf" (accessed March 13, 2008).

পাদটীকা

  1. Uniquely Human। ১৯৯১। আইএসবিএন 0-674-92183-6।
  2. World's Oldest Ritual Discovered -- Worshipped The Python 70,000 Years Ago The Research Council of Norway (2006, November 30). World's Oldest Ritual Discovered -- Worshipped The Python 70,000 Years Ago. ScienceDaily. Retrieved March 2, 2008, fromhttp://www.sciencedaily.com /releases/2006/11/061130081347.htm
  3. Robbins, Lawrence H.; AlecC. Campbell; George A. Brook; Michael L. Murphy (জুন ২০০৭)। "World's Oldest Ritual Site? The "Python Cave" at Tsodilo Hills World Heritage Site, Botswana" (PDF)NYAME AKUMA, the Bulletin of the Society of Africanist Archaeologists (67)। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১০
  4. Karl J. Narr। "Prehistoric religion"Britannica online encyclopedia 2008। ২০১১-০৮-২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৩-২৮
  5. Aurenche, Olivier., Jacques Cauvin et la préhistoire du Levant, Paléorient, Volume 27, Number 27-2, pp. 5-11, 2001.
  6. Jacques Cauvin; Trevor Watkins (২০০০)। The birth of the Gods and the origins of agriculture। Cambridge University Press। আইএসবিএন 978-0-521-65135-6। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১১
  7. Archaeologist Sarah M. Nelson criticizes Gimbutas suggesting that she used the same techniques used in the past to disparage women but in this case to glorify them, and quotes another archaeologist, Pamela Russell, as saying "The archaeological evidence is, in some cases, distorted enough to make a careful prehistorian shudder". See Nelson, Sarah M (২০০৪)। Gender in archaeology: analyzing power and prestige। AltaMira Press। পৃষ্ঠা 132। আইএসবিএন 978-0-7591-0496-9।

টেমপ্লেট:Paganism

টেমপ্লেট:Prehistoric technology

This article is issued from Wikipedia. The text is licensed under Creative Commons - Attribution - Sharealike. Additional terms may apply for the media files.