রামকৃষ্ণ গোসাঁই
রামকৃষ্ণ গোসাঁই | |
---|---|
হিন্দু ধর্মগুরু | |
![]() | |
জন্ম | ১৫৭৬ খ্রিষ্টাব্দ |
জন্মস্থান | মাছুলিয়া (অধুনা হবিগঞ্জ জেলা, বাংলাদেশ), আখড়া নামে খ্যাত |
পূর্বাশ্রমের নাম | রামকৃষ্ণ |
মৃত্যু | ১৫৩৩ খ্রিস্টাব্দ |
মৃত্যুস্থান | শ্রীহট্র (বর্তমান সিলেট) |
গুরু | শান্ত গোসাঁই বা শ্যাম বাউল এবং নরোত্তম দাস ঠাকুর (মন্ত্র গুরু) |
দর্শন | জগন্মোহনী বাউল বৈষ্ণবধর্ম, অদ্বৈতবাদী, ভক্তিযোগ |
সম্মান | "গোসাঁই", |
উক্তি | |
পাদটীকা | |
জন্ম ও বাল্যজীবন
রিচি পরগনাবাসী দাসবংশীয় বনমালী দাস ( নিত্যানন্দ প্রভু) অপুত্রক ছিলেন । তার পত্নী জাহ্নবীর সহিত শ্রীক্ষেত্র গমন করিয়া পুত্র কামনা করেন । শ্রীক্ষেত্র থেকে চলিয়া আসিলে জাহ্নবীর গর্ভ লক্ষন প্রকাশ পায় । সেই গর্ভে ১৫৭৬ সালে এবং বাংলা ৯৮৩ রামকৃষ্ণের জন্ম হয় । রামকৃষ্ণের বয়স যখন তিন বছর সেই সময় তাহার পিত্র বিয়োগ হয় । রামকৃষ্ণ পিতা কতৃর্ক পালিত হইয়া গ্রাম্য পাঠশালায় প্রবিষ্ট হন ও বাংলাভাষা শিক্ষা করিতে আরম্ভ করেন । রামকৃষ্ণের বুদ্ধি অতি চমৎকার , বুদ্ধির তীক্ষ্মতায় সকলে মোহিত হইয়া প্রশংসা করিত । যখন রামকৃষ্নের বয়স ত্রয়োদশ বছর তখন তার পিতা ইহলীলা সংবরন করেন । নিরাশ্রয রামকৃষ্ণ তখন গ্রামবাসী মাতুলের প্রতিপাল্য হইয়া উঠেন ।
দীক্ষাজীবন
যখন রামকৃষ্ন ষোড়শ বছরে পর্দাপন করেন তখন মাছুলিয়া আখড়াবাসী জগন্মোহনী সমপ্রদায়ী শান্ত গোসাঁই রিচিতে জণৈক শিষ্যগৃহে উপনীত হইয়া ছিলেন । শান্ত গোসাঁই পরম ধার্মিক ও সদাশয় ব্যক্তি ছিলেন । ইনি রিচি অবস্হিতিকালে ইহাকে দেখিয়া অনেকেই যাইত, তাহদের সহিত একদিন রামকৃষ্ণ গমন করিয়াছিলেন । বালক রামকৃষ্ণের সরল সুন্দর চেহারা শান্ত গোসাঁইর দৃষ্টি আকর্ষন করিল, তিনি ইহার পরিচয জিঞ্জাসিলে রামকৃষ্ণ নিজ পরিচয় দিয়া তদীয় আশ্রম ও কৃপাপ্রাপ্তির জন্য প্রার্থনা করিলেন । রামকষ্ণের কথায় বিগলিত হইয়া তাকে মাছুলিয়ার আখড়াতে যাইতে বলিলেন । পিত্র মাত্রহীন রামকৃষ্ণ সংসারের অনিত্যতা নির্ম্মতায় সংসারের প্রতি সেই বয়সেই বীতশ্রদ্ধ হইয়া উঠিয়াছিলেন । রামকৃষ্ণ ৯৯৯ বাংলা মাছুলিয়ার আখড়াতে গিয়া শান্ত গোসাঁই হইতে ভেক আশ্রয় করিলেন । বেশ মধ্যে মাথায় টোপর বা টুপি ও খিলকা এবং তিলক এবং তিলক মালা ধারনের আদেশ পাইলেন । সন্ধ্যায় নির্ব্বান সঙ্গীত গাইয়া পরে“ সাধো এবং ব্রক্ষকি বাণী গুরু সত্য” জয় ধ্বনী করিতে উপদিষ্ট হইলেন । আমিষ বর্জন ও স্ত্রী সঙ্গত্যাগে বিশেষরূপে প্রতিঞ্জাবদ্ধ হইলেন । এরূপে রামকৃষ্ণ গুরুর উপদেশ অনুসারে সাধন ভজনে প্রবৃত্ত হইলেন এবং দ্বাদশ বছর (১০১১ বাংলা পর্যন্ত) এই স্হানে থাকিয়া ভজন করিলেন। এই সময় তিনি স্বয়ং সঙ্গীত রচনা করিয়া সাধন ভজন করিতেন,তৎকৃত দুটি নির্ব্বান সঙ্গীত এই,
" তোমারে আমি ভজিব কেমনে ও নাথ" তোমারে আমি ভজিব কেমনে" "ধ্রুঅক্ষর নির্ণয় নাই, জপতপে নাহি পাই" "রূপ বর্ণনা দেখি নয়নে" "হইয়াছে হইবে যত,তোমার মহিমা তত" "নিমিষেতে না রবে সকল" "তুমি প্রভু দয়াময়,লীলা তব না বুজিয়ে" " বাহ্য অন্তর নাহি মন সকলে সঁপিল,হীন রামদাস বলে সমুদ্রে ভাসিয়া " "পাকে না ঠেকাও গুরু মোরে নিবা উদ্ধারিয়া"( কবির দাস রচিত শ্রীরামকৃষ্ণ চরিত্র হইতে)
। রামকৃষ্ণের মনে যখন ভাবের উদয় হইত সঙ্গীতবন্দে প্রায় তাহা গাইতেন। কৃপালু মোহন্ত(রামকৃষ্ণের প্রথম শিষ্য) তাহা শুনিতে শুনিতে লিখিয়া রাখিতেন। রামকৃষ্ণ অল্পদিনের মধ্যে ঢাকায় উপস্হিন হন এবং তথায় কিছুদিন অবস্হান করেন। ঢাকা হইতে তিনি ভবানীপুরে কালী ঘাটে গিয়া সাতদিন থাকেন,পরে ডথা হইতে তিনি গঙ্গা সাগরে উপনীত হন। তথা হইতে শ্রীক্ষেত্র গমন পথে চোরা গোপীনাথ ও সাক্ষীগোপাল দর্শন পূর্বক পুরী পৌঁছেন। দূর হইতে মন্দিরের চূড়াদর্শনে তাহার মনে অপার আনন্দ উপজাত হয়। আনন্দভরে একটি বংশীবাদন পূর্বক নৃত্য করিতে করিতে তিনি পথ চলিতে আরম্ভ করেন, পৌঁছিয়াই জগন্নাথ দর্শণে গমন করেন সজল নয়নে। নম: প্রসন্ন নেত্রায় নীলাচল বিহারীনে। নমস্তে পুন্ডরীকাক্ষ রূপায়তে। নিজকৃত এই স্তুতিগীতি, পুন:পুন পাঠ করিতেছিলেন। জগন্নাথকে ছাড়িয়া আর কোথাও যাইতে তাহার আর প্রবৃত্তি হইল না,তিনি দশ বছর তথায় অবস্হান করেন। তিনি রাত্রি জাগরন পূর্বক সর্বদা গুরু দেবের ধ্যানে নিশি কীর্তন করিতেন। গুরুদেবের আজ্ঞা তীর্থ ভ্রমনে, তীর্থ বাসে নহে, তাই দশ বছর পর তার নীলাচল থেকে গমন করিয়া আলালনাথ গমন করিলেন। তার পরের দিন তথা হইতে শীরুলীতে উপস্হিত হইলেন। শীরুলি হইতে মাদ্রাজ গমন করিলেন,তারপর দক্ষিণাভিমুখে গমন করিয়া সেতুবন্ধে উপস্হিত হন।সেতুবন্ধ থেকে নীলগীরিতে উপস্হিত হইয়া কয়েকদিন বিশ্রাম করিয়া নির্জনে উপবাস করেন। তারপর পশ্চিমামুখ হইয়া সেতারা,মুম্বাই, পুনা, প্রভৃতি স্হানে তীর্থাদি দর্শন করিয়া এক বছর কাল সেই স্হানে বাস করেন। তথা হইতে দ্বারকাধামে উপস্হিত হন ও তথায় এক বছর অবস্হান করেন। [1]
তথ্যসূত্র
- শ্রীহট্রের ইতিবৃত্ত অচ্যুতচরন চৌধুরী তত্ত্বনিধি, উত্তরাংশ ও পূর্বাংশ অবলম্বনে