ভবশঙ্করী

ভবশঙ্করী ছিলেন একজন বাঙালী বীর রমনী ও তদানীন্তন ভুরশুট রাজ্যের রানী। ভুরশুট ছিল অধুনা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হাওড়া ও হুগলি জেলার অন্তর্গত একটি প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় রাজ্য।

প্রাথমিক জীবন

ভবশঙ্করী ছিলেন এক গ্রাম্য জমিদারের কন্যা। ছোটবেলা থেকে অসিখেলা, ঘোড়ায় চড়া, তীরন্দাজিতে পারদর্শিনী ছিলেন। ভুরশুটের রাজা রুদ্রনারায়ন তার বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে তাকে বিবাহ করেন।[1]

রাজ্যশাসন

রাজা রুদ্রনারায়নের মৃত্যুর পর রাজ্যের শাসনভার আসে তার ওপর। তিনি দক্ষতার সাথে রাজ্যশাসন পরিচালনা করেন। এইসময় ভুরশুটের অধিবাসী পাঠান সর্দার ওসমান খাঁ মোগল সম্রাটের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়। ওসমান যুদ্ধের জন্যে রানীর সাহায্য চায় কিন্তু ভবশঙ্করী রাজী না হলে সে ভুরশুট রাজ্য আক্রমন করার পরিকল্পনা করে। পাণ্ডুয়ার কাছে গড় ভবানীপুর ছিল ভুরশুটের রাজধানী। সেখান থেকে ১৪ মাইল দূরে বাসডিঙা গড়ের কালীমন্দিরে ভবশঙ্করী পূজা দিতে গেলে ওসমান দলবল নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায় রাণীর ওপর। সামান্য যে ক’জন দেহরক্ষী ছিল, তাদেরকে নিয়েই পাঠানদের সঙ্গে প্রবল যুদ্ধ শুরু করেন তিনি। তার বীরত্ব ও রনকৌশলের কাছে পরাজিত এবং নিহত হয় ওসমান। এই সংবাদ পেয়ে কিছুদিন পরে মোগল সম্রাট আকবর, রানী ভবশঙ্করীকে রায়বাঘিনী উপাধিতে ভূষিত করেন।[1]

সংস্কৃতি

তার স্মৃতিতে প্রতি বছর হাওড়ার উদয়নারায়নপুরে রায়বাঘিনী রানী ভবশঙ্করী মেলা হয়। নাট্যকার দীনেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত তার জীবন নিয়ে ঐতিহাসিক নাটক 'রানী ভবশঙ্করী' রচনা করেছেন।[2]

তথ্যসূত্র

  1. প্রথম খন্ড, সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু (২০০২)। সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান। কলকাতা: সাহিত্য সংসদ। পৃষ্ঠা ৩৭৪।
  2. "রানী ভবশঙ্করী তিন অঙ্কের ঐতিহাসিক নাটক"। Rabindra Bharati University। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মে ২০১৭
This article is issued from Wikipedia. The text is licensed under Creative Commons - Attribution - Sharealike. Additional terms may apply for the media files.