বাল্টি অধিবাসী
বাল্টি অধিবাসীরা তিব্বতিয়দের বংশধর হিসেবে আগত জাতিগোষ্ঠী যাদীর সাথে দার্দিয়দের মিশ্রণ ঘটেছে। এরা পাকিস্তানের গিলগিত-বালতিস্তান অঞ্চল এবং ভারতের কার্গিল অঞ্চলে বসবাস করে। আরো অল্প কিছু জনসংখ্যা পাওয়া যায় লেহ অঞ্চলে; এছাড়া অন্যান্যরা পাকিস্তানের লাহোর, করাচি এবং ইসলামাবাদ/রাওয়াল্পিন্ডি প্রভৃতি শহরকেন্দ্রিক এলাকায় বসবাস করে।
![]() | |
মোট জনসংখ্যা | |
---|---|
গিলগিত বাল্টিস্তানের ২৮% (২৪৭,৫২০)১৯৯৮ | |
উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যার অঞ্চলসমূহ | |
গিলগিট-বাল্টিসান (পাকিস্তান) লাদাখ (ভারত) | |
ভাষা | |
বাল্টি | |
ধর্ম | |
শিয়া মুসলিম প্রধান, সংখ্যালঘুদের মধ্যে আছে সুফি নূর বক্সি, সুন্নী ইসলাম, তিব্বতিয় বৌদ্ধধর্ম ও বন ধর্মীয় লোক। | |
সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী | |
বুরিগ, লাদাখিয়, তিব্বতিয়, দার্দিয় |
তাদের বসবাসের অঞ্চল বসবাসের জন্য মোটেও আরামদায়ক নয়। বহুসংখ্যক উঁচু পর্বতের কারণে এটি পৃথিবীর এক বিশেষ এলাকা। বাল্টি অধিবাসীরা বাস করে প্রায় ৬০টি পর্বত যাদের উচ্চতা ৭০০০ মিটারের বেশি এবং ৪টি ৮০০০ মিটারের চেয়ে বেশি উঁচু পর্বতবিশিষ্ট অঞ্চলে। এমনটা পৃথিবীর আর কোথাও নেই।
ভাষা
বাল্টি ভাষা তিব্বতি ভাষা পরিবারের অংশ। রিড (১৯৩৪) মনে করেন এটি লাদাখিরই একটি উপভাষা। তবে জন লুই তুর্নাদার এটিকে লাদাখির সহভাষা হিসেবে মত দেন(২০০৫)।
ধর্ম
বাল্টিরা ঐতিহাসিকভাবে বন ধর্ম এবং তিব্বতী বৌদ্ধধর্ম চর্চা করত। সুফি ধর্মপ্রচারকদের মাধ্যমে বাল্টিস্তানে ইসলাম প্রবেশ করেছে। এদের মধ্যে আমির কাবীর সৈয়দ আলি হামাদানি ১৫শ শতকে বেশ প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। তাই বাল্টিদের এখনো ইসলাম গ্রহণ পূর্ববর্তী বন ধর্মীয় এবং তিব্বতী বৌদ্ধধর্ম এর আচার অনুষ্ঠান পালন করতে দেখা যায়। স্বস্তিকা (ইয়ুং দ্রুং) চিহ্নকে মঙ্গলজনক মনে করা হয় এবং ঐতিহাসিক মসজিদ এবং খানকাহগুলির কাঠের তক্তায় অঙ্কিত থাকতে দেখা যায়। এই চিহ্নটি হল লহা এবং লহুকে (বন ধর্মীয় দেবতা) বিভিন্ন গ্রাম্য আচার অনুষ্ঠানে সম্মানের রীতিতে ব্যবহৃত হয়।
বাল্টিরা তাদের মসজিদ এবং খানকাহগুলোতে ধর্মসভাকে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে দেখে থাকে। খানকাহগুলো প্রশিক্ষণের বিদ্যালয় যেখানে আদি ধর্মপ্রচারকদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল যারা এই এলাকায় পৌঁছে। শিক্ষার্থীরা এই প্রশিক্ষণগুলোর মাধ্যমে আধ্যাত্মিক বিশুদ্ধতা (তাজকিয়াহ) অর্জন করে। এই প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে দক্ষ আধ্যাত্মিক ধার্মিকেরা যারা একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের আধ্যাত্মিকতা অর্জন করেছে।
বাল্টিস্তানের মসজিদ্গুলো মূলত তিব্বতীয় ঘরানায় তৈরি। যদিও লাদাখে ও কার্গিলে কিছু মসজিদ কাঠের নকশা ও সজ্জায় নির্মিত যেগুলো মোঘলদের দ্বারা প্রভাবিত। প্রতি শুক্রবারে পুরুষেরা জুমুআর নামাজে সমবেত হয়। রমজান মাসে মুসলমানরা দিনে রোযা রাখে এবং মাস শেষে আনন্দ উদযাপন করে।
বর্তমানে, বাল্টিরা প্রায় ৬০% শিয়া, ৩০% সুফি ইমামি নুরবকশিয় এবং ১০% সুন্নি।[1] খারমাং উপত্যকা এবং পশ্চিম কার্গিলে অল্প বন ধর্মীয় এবং তিব্বতীয় বৌদ্ধধর্মে বিশ্বাসীদের সংখ্যা হবে প্রায় ৩০০০।[2]
জিনগত উৎস
জিনতত্ত্বের গবেষণা থেকে উঠে এসেছে বাল্টি জনগণের ৪৬% পৈত্রিক সূত্রে হ্যাপ্লোগ্রুপ R1এ এর সাথে সম্পর্কিত।
আরো দেখুন
- তিব্বতী মুসলিম
- থ্রি কাপ্স অব টি, বাল্টিস্তানে বিদ্যালয় নির্মাণের সাথে সম্পৃক্ত একজন আমেরিকান সম্পর্কে বই।
- বাল্টি ভাষা
- গিলগিত-বালতিস্তান
তথ্যসূত্র
- Bakshi, S. R. (১৯৯৭-০১-০১)। Kashmir: History and People (ইংরেজি ভাষায়)। Sarup & Sons। আইএসবিএন 9788185431963।
- "Archived copy"। ২০০৭-০৯-২৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-০৬-১২।
আরো পড়ুন
- মুহাম্মদ ইউসুফ হুসাইনাবাদী, 'বাল্টিস্তান পার এক নজর' ১৯৮৪।
- হুসাইনাবাদী, মুহাম্মদ ইউসুফ। বাল্টি জবান। ১৯৯০।
- মুহাম্মদ ইউসুফ হুসাইনাবাদী, 'তারিখ-ই-বাল্টিস্তান'। ২০০৩। .