আরাকান পর্বতমালা

আরাকান ইয়োমা বা আরাকান পর্বতমালা পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম মিয়ানমারের একটি পর্বতমালা। এটি বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় আরাকান অঞ্চল থেকে উত্তর মিয়ানমারের অভ্যন্তরভাগকে পৃথক করেছে। আরাকান ইয়োমা উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত। দক্ষিণে মিয়ানমারের নেগ্রাইস অন্তরীপ থেকে শুরু হয়ে এটি উত্তরে প্রায় ৯৫০ কিলোমিটার প্রসারিত হয়ে ভারতের অঙ্গরাজ্য মণিপুর পর্যন্ত চলে গেছে; এর মধ্যে নাগা, চিন, লুশাই এবং পাটকাই পাহাড় অন্তর্গত। এটির বেশির ভাগ পর্বতের উচ্চতা ৯১৫ থেকে ১৫২৫ মিটার। পর্বতমালার উত্তরের অংশটি চিন পর্বতশ্রেণী নামে পরিচিত; এটি ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে সীমান্তের একাংশ গঠন করেছে। চিন পর্বতশ্রেণীতে, মিয়ানমারের দক্ষিণ চিন অঙ্গরাজ্যে, আরাকান ইয়োমার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ ৩,০৫৩ মিটার উঁচু নাত মা তাউং বা মাউন্ট ভিক্টোরিয়া অবস্থিত। চিন পর্বতশ্রেণীটি মিজো পর্বতশ্রেণী ও পূর্বাচল পর্বতশ্রেণীর সাথে যুক্ত; এগুলি ভারতের নাগাল্যান্ড পর্যন্ত চলে গেছে।

আরাকান পর্বতমালা (আরাকান ইওমা)
রাখাইন পর্বতমালা
Range
দেশ মায়ানমার
অঞ্চল Rakhine State
সর্বোচ্চ বিন্দু Mount Victoria
 - উচ্চতা ৩,০৯৪ মিটার (১০,১৫১ ফিট)
 - স্থানাঙ্ক ২১°২৫′৪৬.৩৬″ উত্তর ৯৩°৪৯′১০.৭৫″ পূর্ব
Topography of Myanmar
Topography of Myanmar

আরাকান ইয়োমার পর্বতগুলি মূলত প্রাচীন স্ফটিকাকার শিলার উপরে স্তরীভূত পলল শিলা নিয়ে গঠিত। এর উপকূলীয় ঢালগুলি প্রশস্ত পাতাবিশিষ্ট চিরসবুজ বৃক্ষ ও বাঁশ অরণ্যে আবৃত। এর পূর্ব ঢালে সেগুন গাছ জন্মায়, যা মিয়ানমারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের একটি। উপকূলীয় এলাকায় বছরে প্রায় ৫,১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, কিন্তু পূর্বের ঢালে ১০২০ মিলিমিটারেরও কম বৃষ্টিপাত হয়। আরাকান ইয়োমার বন্যপ্রাণীর মধ্যে আছে ভাল্লুক, হাতি, চিতা, এবং বাঘ।

আরাকান পর্বতমালা ঐতিহাসিকভাবে ভারতীয় উপমহাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করেছে। এছাড়া এটি একটি জলবায়ুগত বাধা হিসবেও কাজ করে। এই পর্বতশ্রেণীর কারণে দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে আগত মৌসুমী বৃষ্টি মধ্য মিয়ানমারে পৌঁছতে পারে না।

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র

    বহিঃসংযোগ

    This article is issued from Wikipedia. The text is licensed under Creative Commons - Attribution - Sharealike. Additional terms may apply for the media files.