অ্যানথ্রাক্স (রোগ)

অ্যানথ্রাক্স একটি বিষম রোগ, যা ব্যাসিলাস অ্যান্থ্রাসিস (Bacillus anthrasis) নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে।

অ্যানথ্রাক্স / Anthrax
ব্যাসিলাস অ্যান্থ্রাসিস ব্যাক্টেরিয়ার ছবি, যা অ্যান্থ্রাক্স রোগের জন্য দায়ী
শ্রেণীবিভাগ এবং বহিঃস্থ সম্পদ
বিশিষ্টতাসংক্রামক রোগ[*], veterinary medicine[*]
আইসিডি-১০A২২.minor
আইসিডি-৯-সিএম০২২
ডিজিসেসডিবি১২০৩
মেডলাইনপ্লাস০০১৩২৫
ইমেডিসিনmed/148
পেশেন্ট ইউকেঅ্যানথ্রাক্স (রোগ)
মেএসএইচD০০০৮৮১ (ইংরেজি)

ব্যাসিলাস গণের অন্যান্য সদস্যের মতো অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু Bacillus anthracisও প্রতিকূল পরিবেশে স্পোর হিসাবে সুপ্ত অবস্থায় বেঁচে থাকতে পারে। সুপ্ত দশায় এই জীবাণু শতাব্দীর পর শতাব্দীও টিকে থাকতে পারে।[1] সব মহাদেশে, এমনকি কুমেরুতেও এরকম স্পোর পাওয়া গেছে। [2] নিঃশ্বাসের সাথে, ত্বকের ক্ষত দিয়ে, কিংবা খাদ্যের মাধ্যমে এই জীবাণুর স্পোর দেহে প্রবেশ করার পরে পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠে এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে।

অ্যানথ্রাক্স সাধারণত বন্য এবং গৃহপালিত লতাপাতাভোজী স্তন্যপায়ী প্রাণীদের আক্রান্ত করে। এ সকল প্রাণী ঘাস খাওয়ার সময় বা মাঠের চরার সময় খাওয়ার সাথে বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে স্পোর প্রাণীর ভিতরে গিয়ে আক্রান্ত হয়। লতাপাতা বা ঘাস খাওয়ার সময়ই বেশির ভাগ প্রাণী অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়। মাংসাশী প্রাণী একই পরিবেশে বাস করে অথবা আক্রান্ত প্রাণী খাওয়ার ফলে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্ষে বা আক্রান্ত প্রাণীর মাংস খাওয়ার ফলে অ্যানথ্রাক্স মানুষের শরীরেও সরাসরি সংক্রমণ হতে পারে।

অ্যানথ্রাক্স স্পোর ইন ভিট্রো (টেস্ট টিউব) পদ্ধতিতে তৈরি করা যায়, যা জৈবিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অ্যানথ্রাক্স সরাসরি এক আক্রান্ত পশু বা ব্যক্তির থেকে অন্য পশু বা ব্যক্তির শরীরে ছড়ায় না, এটি স্পোরের মাধ্যমে এর সংক্রমিত হয়। এর স্পোর জামা কাপড় বা জুতার মাধ্যমে বহন করা যায়। অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত জীবের মৃত দেহ অ্যানথ্রাক্স স্পোরের একটি অন্যতম উৎস।

অ্যানথ্রাক্স নামটি এসেছে গ্রিক শব্দ অ্যানথ্রাক্স থেকে যার অর্থ কয়লা। ১৮৭৫ সালে জার্মান বিজ্ঞানী রবার্ট কচ প্রথম অ্যানথ্রাক্স সৃস্টিকারী ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করেন। [3][4]

অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত হওয়ায় সৃষ্ট ক্ষত

চিকিৎসা

মানুষ থেকে মানুষে অ্যানথ্রাক্স ছরায় না কিন্তু মানুষের শরীর এবং পোশাক অ্যানথ্রাক্স জিবানু বহন করতে পারে। শরির থেকে জীবানু দুর করার জন‍্য অ‍্যান্টিব‍্যকটেরিয়াল সাবান দিয়া গোসল করতে হবে। গোসলের পানি ব্লিচ বা কোনো অ‍্যান্টিব‍্যকটেরিয়াল দ্বারা শুদবধ করতে হবে। জীবানু আক্রা্নত জিনিসপত্র ৩০ মিনিটের অধিক সময় ধরে ফুটাতে হবে। কোনো জায়াগা থেকে জীবানু ধ্বংসে ক্লোরিন ব্লিচ কাযর্করী নয় বরং এক্ষেত্রে ফরমালডীহাইড ব‍্যবহার করতে হবে। আক্রান্ত বাক্তির কাপড় পুড়িয়ে ফেলা জীবানু ধ্বংসের একটি কাযর্কর পদ্ভতি। মানুষ আক্রান্ত হবার পর যত দুত সম্ভব অ্যানথ্রাক্স জীবানুনাষক দিতে হবে , যত দেরি হবে জীবনের ঝূকি তত বারবে। মানুষের জন‍্য অ্যানথ্রাক্স ভ‍্যাক্সিন প্রথম আসে ১৯৫৪ সালে[5]

তথ্যসূত্র

  1. "Crossrail work stopped after human bones found on site ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৫ মে ২০০৯ তারিখে," London Evening Standard
  2. "Hudson, J. A.; Daniel, R. M. and H. W. Morgan (2006). "Acidophilic and thermophilic Bacillus strains from geothermally heated antarctic soil." FEMS Microbiology Letters 60(3):279–282.
  3. Koch, R. (1876) "Untersuchungen über Bakterien: V. Die Ätiologie der Milzbrand-Krankheit, begründet auf die Entwicklungsgeschichte des Bacillus anthracis" (Investigations into bacteria: V. The etiology of anthrax, based on the ontogenesis of Bacillus anthracis), Cohns Beitrage zur Biologie der Pflanzen, vol. 2, no. 2, pages 277-310.
  4. Madigan M; Martinko J (editors). (২০০৫)। Brock Biology of Microorganisms (11th সংস্করণ)। Prentice Hall। আইএসবিএন 0-13-144329-1।
  5. "Anthrax and Anthrax Vaccine - Epidemiology and Prevention of Vaccine-Preventable Diseases ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৪ আগস্ট ২০১২ তারিখে", National Immunization Program, Centers for Disease Control and Prevention, January 2006. (PPT format)

বহিঃসংযোগ

This article is issued from Wikipedia. The text is licensed under Creative Commons - Attribution - Sharealike. Additional terms may apply for the media files.