মোহাম্মদ আলী (মুক্তিযোদ্ধা)

মোহাম্মদ আলী (জন্ম: অজানা - মৃত্যু: ২৭ মার্চ ১৯৭১) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রথম শহীদ।[1]

মোহাম্মদ আলী
মৃত্যু২৭ মার্চ ১৯৭১(১৯৭১-০৩-২৭)
জাতীয়তাবাংলাদেশী
নাগরিকত্ব পাকিস্তান (১৯৭১ সালের পূর্বে)
 বাংলাদেশ
পেশারিক্সাচালক
পরিচিতির কারণমুক্তিযুদ্ধে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রথম শহীদ

ঘটনার পূর্বের ইতিহাস

১৯৭১ সালে ঠাকুরগাঁও ছিলো দিনাজপুর জেলার একটি মহকুমা। পাকিস্তানী শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়নের কারণে সারা বাংলার মত প্রত্যন্ত এই জনপদেও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করতে ছিলো । ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ সকাল থেকেই রেডিওতে ঘন ঘন প্রচার করা হচ্ছিল বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ সরাসরি ঢাকার রমনায় অবস্থিত রেসকোর্স ময়দানে থেকে প্রচার করা হবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ভাষণের মঞ্চে উঠার আগ মুহূর্তে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সরাসরি প্রচার বন্ধ করে দেয়। ৮ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সমগ্র ভাষণের রেকর্ড রেডিওতে প্রচারিত হওয়ার পর শহর বিক্ষোভে গর্জে উঠে। এরপরে সারাদেশের মত ঠাকুরগাঁও মহকুমাতেও পাকিস্তানী শাসন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পরে । স্কুল, কলেজ, অফিস আদালত পরিচালিত হতে থাকে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ।[2]

ঘটনার পটভূমি

২৫ মার্চ গভীর রাতে ঢাকায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী হত্যাযজ্ঞ খবর পৌঁছার পর ২৭ মার্চ ঠাকুরগাঁও শহরে মুক্তিকামী জনতার এক বিশাল মিছিল বের হয়। মিছিলের উদ্দেশ্য ছিল ইপিআর (বর্তমানে বিজিবি ) ক্যাম্পে গিয়ে বাঙ্গালী ইপিআরদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করা।

মিছিলটি ঠাকুরগাঁও শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরাস্তা থেকে দক্ষিণে কালীবাড়ি মোড়ের কাছে অগ্রসর হতেই মিছিলের সামনে এসে হাজির হয় পাক হানাদার বাহিনীর একটি জীপ ও এক লরী সৈন্য। জীপ থেকে নেমে মেজর মোহাম্মদ হোসেন ও ক্যাপ্টেন নাবিদ আলম মিছিলকারীদের জিজ্ঞাসা করে, তোমরা কি চাও? মিছিল থেকে অসীম সাহসী, অকুতোভয় বলিষ্ঠদেহী, মধ্য বয়সী মোহাম্মদ আলী সামনে এসে চিৎকার দিয়ে উঠে জয় বাংলা, স্বাধীন বাংলা । মেজর মোহাম্মদ হোসেনের ইশারায় হানাদারের রাইফেল গর্জে ওঠে। মুহূর্তে চিৎকার দিয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে মোহাম্মদ আলী। মিছিলের বাকি লোক ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন দিকে ছুটে পালিয়ে যায়। পাকা রাস্তার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে মোহাম্মদ আলীর লাশ। তড়িঘড়ি করে ঘটনাস্থলে রাস্তার পূর্বপাশে মোহাম্মদ আলীর লাশ দাফন করা হয়। ঐ দিনই কে বা কারা কবরের উপর একটি কাগজে লিখে টানিয়ে দেয়, ঠাকুরগাঁওয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম শহীদ মোহাম্মদ আলী

স্মৃতি সৌধ

মোহাম্মদ আলীর স্মৃতিকে ধরে রাখতে তার কবরের পাশের সড়কের নামকরণ করা হয় শহীদ মোহাম্মদ আলী সড়ক । পরবর্তীতে তার কবরের উপর স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। এছাড়া ঠাকুরগাঁও জেলা স্টেডিয়ামে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম

তথ্যসূত্র

This article is issued from Wikipedia. The text is licensed under Creative Commons - Attribution - Sharealike. Additional terms may apply for the media files.