ধর্ষকের প্রকারভেদ

অনেক গবেষক ধর্ষকদের বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন

বারবারির বিশেষ প্রকারভেদ

কুইন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী হাওয়ার্ড বারবারে বলেছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধর্ষণে, ধর্ষকের আবেগপ্রবণতা এবং সুবিধাবাদিতা দেখা যায়। যারা আবেগপ্রবণতা থেকে ধর্ষণ করে, তাদের মধ্যে ধর্ষণ করার সময়, ধর্ষিতার প্রতিরোধের সময়, ক্রোধ প্রকাশ না করার প্রবণতা দেখা যায়, এবং তারা খুবই অল্প বল প্রয়োগ করে তাকে বাধ্য করে।

আরো কিছু ধর্ষক থাকে, যাদের যৌন সঙ্গমে এক প্রকার অলীক কল্পনা (fantasy) কাজ করে। তারা ভাবে, যদি তারা জোড় করে নারীকে সঙ্গমে বাধ্য করে, তাহলে নারী তাকে ভালোবাসবে। এটা তাদের আগ্রাসন প্রকাশের অল্প পদক্ষেপ মাত্র, যদি নারী শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলে, তারা সাধারণত পলায়ন করে।

কিছু ধর্ষক আছেন, যারা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে থাকেন। তাদের নির্যাতনের মাত্রা হয় শারীরিকভাবে ক্ষতিকর এবং শিকারকে(victim) তারা লাঞ্চনা ও খেলো করতে চায়। আর কিছু ধর্ষক আছেন, যারা ক্রোধপরায়ন হয়ে থাকে। এরা শিকারের শারীরিক ক্ষতি করতে চায়। কিছু ধর্ষক আছে, যারা ধর্ষকামী হয়ে থাকে। এরা শিকারের ভয়কেই উপভোগ করে।[1]

গ্রথের বিশেষ প্রকারভেদ

মনোবিদ[2] নিকোলাস গ্রোথ ধর্ষকের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে ধর্ষককে তিনভাগে ভাগ করেছেন।[3][4]

ক্রোধ ধর্ষক

এই ধরনের ধর্ষকের মূল লক্ষ্য থাকে অসহায়কে খেলো করা, অত্যাচার করা এবং কষ্ট দেওয়া। তারা তাদের ক্রোধকে শারীরিক নির্যাতন এবং অশ্লীল ভাষা প্রয়োগের মাধ্যমে প্রকাশ করে। এই ধরনের ধর্ষকদের জন্য ধর্ষণ শিকারকে হীন করার একটি অস্ত্র, যা ধর্ষকের অনুভূতি প্রকাশের সর্বশেষ হাতিয়ার। এই ধরনের ধর্ষক চিন্তা করে, নির্যাতিতাকে শায়েস্তা করতে ধর্ষণই সর্বশেষ কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

ক্রোধমূলক ধর্ষণের প্রকৃতি হচ্ছে শারীরিক ভাবে কঠোর নির্যাতন করা হয় এবং নির্যাতনের সময় অত্যধিক বল প্রয়োগ করে নির্যাতিতাকে পরাস্ত করা হয়। এই ধরনের নির্যাতনকারী শিকারকে টানাহেঁচড়া করে, আঘাত করে, মাটিতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়, কোনো কিছুর সাহায্যে প্রহার করে, তার পোশাক ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং ধর্ষণ করে[3]

সুলায়মানিয়ার এমনা সার জাদুঘর। জেলে থাকা একজন কুর্দি বালিকার রেপ্লিকা এটি। অল্প বয়সেই তাকে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল। জেলে থাকা অবস্থায় কারারক্ষীদের দ্বারা সে অত্যন্ত কঠোরভাবে নির্যাতিত ও ধর্ষিত হয়েছিল

ক্ষমতা ধর্ষক

এই ধরনের ধর্ষকরা নিজের সক্ষমতা, শক্তি প্রদর্নের হেতু, শোষণমুলক ভাবনার মানসিকতার প্রতিফলন হিসেবে এই ধরনের ধর্ষণ করে। এই ধরনের ধর্ষক মৌখিক হুমকি দেয়, হুমকির সাথে অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীত করে, এবং শিকারকে নিয়ন্ত্রণ করতে যতটুকু বলপ্রয়োগ করতে হয়, ততটুকুই করে থাকে।

পাওয়ার ধর্ষক যৌন বিজয় এবং ধর্ষণের প্রতি একধরনের অলীক কল্পনার ঝোঁক দেখা যায়। তারা এটা বিশ্বাস করে যে, শিকার (victim) প্রাথমিকভাবে হয়তো ধর্ষককে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে, কিন্তু তাকে পরাস্ত করার পরে, পরিশেষে ধর্ষণকে সে উপভোগই করবে। ধর্ষক বিশ্বাস করে, শিকারের সাথে যা হয়েছে, শিকার তাতে সন্তুষ্ট হয়েছে। একারণে তারা এমনকি এটাও জিজ্ঞেস করে, একই কাজের পুনরাবৃত্তি আর কখন করলে নির্যাতিতা খুশি হবে?

কারণ এটা শুধুমাত্রই তাদের একপ্রকার উদ্ভট কল্পনা। এই ধরনের ধর্ষকরা তাদের নিজেদের পারফর্মেন্সে বা শিকারের সাড়াদানে বেশি সময় সন্তুষ্ট থাকতে পারে না। তাদেরকে আরেকটা শিকার খুজে বের করতে হয়।

এইধরনের ধর্ষকদের কার্যবিধি অল্প সময়ের মধ্যে বারবার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

ধর্ষকামমুলক ধর্ষক

ধর্ষকামী ধর্ষণ হলঃ সেই প্রকার ধর্ষণ যেখানে ধর্ষক তার যৌনসঙ্গীকে অত্যধিক ধর্ষণ করে যৌনসুখ লাভ করে। এই ধরনের ধর্ষকরা ক্রোধ এবং বাহুবল উভয়ই প্রয়োগ করে শিকারকে(ভিক্টিম) যে আঘাত প্রদান করে কামমুলক সুখ লাভ করে। এই ধরনের ধর্ষকরা নির্যাতিতাকে যন্ত্রণা দিয়ে যৌন উত্তেজনা লাভ করে। ধর্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে শিকারকে (victim) তীব্রভাবে নির্যাতন করে সন্তোষ লাভ করে। সে শিকারকে নির্যাতন করে, উৎপীড়িত করে, শারীরিক ব্যাথা দিয়ে, অসহায়ত্বের সৃষ্টি করে এক ধরনের আনন্দ লাভ করে।[5] সে চায় নির্যাতিতা তার সাথেই ধ্বস্তাধস্তি করুক, যেটা তার জন্য এক প্রকার কামোদ মুলক অভিজ্ঞতা হবে।

ধর্ষকামমুলক ধর্ষণে নির্যাতন এবং শিকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখা দীর্ঘায়িত হয়। কখনো কখনো এটা ধর্মীয় রীতি বা অন্যান্য উদ্ভট নিয়মকানুনের জন্যও হতে পারে। ধর্ষক বহিরাগত কোনো কিছু বা যন্ত্রাংশও ব্যবহার করতে পারে যাতে তা ধর্ষিতার অভ্যন্তরে প্রবেশ করানো যায়। নির্যাতিতার স্পর্শকাতর অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করা বা পীড়ন করাই থাকে এই ধরনের ধর্ষকের মুল লক্ষ্য।

ধর্ষকামী ধর্ষকের যৌন নির্যাতন আগে থেকে পুর্বপরিকল্পিত, নির্ধারিত এবং হিসাব করা থাকে। তারা প্রায়ই দেখা যায় ছদ্মবেশ ধারণ করে অথবা শিকারের চোখে পট্টি বেধে দেয়।[5] গণিকা অথবা অন্য মানুষ যারা এলোমেলো ভাবে চলাফেরা করে, তারাই এই ধরনের ধর্ষকদের মুল লক্ষ্যে পরিণত হয়। এই ধরনের ধর্ষকদের যারা শিকারে পরিণত হয়, তারা দেখা যায় অনেকসময় বেচে ও থাকে না। এই ধরনের কিছু ধর্ষক নির্যাতিতাকে খুন করে সর্বোচ্চ পরিতৃপ্তি লাভ করে।[3]

আরো দেখুন

তথ্যসূত্র

  1. Goleman, Daniel (১০ ডিসেম্বর ১৯৯১)। "New Studies Map the Mind of the Rapist" (ইংরেজি ভাষায়)।
  2. Male Rape. secas.com.au
  3. "Cnter for Sex Offender Management Lecture Content & Teaching Notes Suervision of Sex Offenders in the Community: An Overview" (ইংরেজি ভাষায়)। Center for Sex Offender Management। ২০০৮-০৫-২৬।
  4. Awasthi B (২০১৭)। "From Attire to Assault: Clothing, Objectification, and De-humanization – A Possible Prelude to Sexual Violence?"। Frontiers in Psychology (ইংরেজি ভাষায়)। 8: 338। doi:10.3389/fpsyg.2017.00338
  5. Groth, Nicholas (১৯৭৯)। Men Who Rape: The Psychology of the Offender (ইংরেজি ভাষায়)। New York: Plenum Press। পৃষ্ঠা 44–45। আইএসবিএন 0-306-40268-8।
This article is issued from Wikipedia. The text is licensed under Creative Commons - Attribution - Sharealike. Additional terms may apply for the media files.