উদীচী সম্মেলনে বোমা হামলা

উদীচী সম্মেলনে বোমা হামলা বাংলাদেশে সংগঠিত একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এই নৃশংস হত্যাকান্ডটিতে ১০ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ আহত হয়।[1]

উদীচী সম্মেলনে বোমা হামলা
স্থানযশোর, বাংলাদেশ
তারিখ৬ মার্চ ১৯৯৯ (ইউটিসি+০৬:০০)
লক্ষ্যবাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী
হামলার ধরনগণহত্যা; বোমা আক্রমণ; সন্ত্রাসবাদ
নিহত১০
আহত১৫০
হামলাকারী দলহরকত-উল-জিহাদ আল-ইসলামী

স্থান ও সময়

১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ তারিখে যশোর টাউন হল মাঠে এই বোমা হামলাটি সংগঠিত হয়।[2]

ঘটনার বিবরণ

১৯৯৯ সালের ও ৬ মার্চ তারিখে যশোর টাউন হল মাঠে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রথমদিনের অনুষ্ঠান সফলভাবে সমাপনের পর ৬ তারিখ ছিলো সমাপনী অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে বাউল গানের আসরে দুই দফা বোমা বিস্ফোরণ ঘটে।[2] এতে ১০ জন সাংস্কৃতিক কর্মী ও দর্শক প্রাণ হারানোর পাশাপাশি আহত হন আরো অগণিত মানুষ। নিহতরা হলেনঃ[3]

  • নূর ইসলাম,
  • নাজমুল হুদা তপন,
  • সন্ধ্যা রানী ঘোষ,
  • ইলিয়াস মুন্সী,
  • শাহ আলম বাবুল,
  • বুলু,
  • রতন রায়,
  • বাবুল সূত্রধর,
  • শাহ আলম ও
  • রামকৃষ্ণ।

মামলা ও বিচার

১৯৯৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর উদীচী হত্যাকাণ্ড মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামসহ ২৪ জনের নামে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। সে সময় তরিকুল ইসলামের আবেদনে উচ্চ আদালত তাঁর নাম বাদ দেয়। ২০০৬ সালের ৩০ মে যশোরের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বিচারের রায়ে এই মামলার ২৩ আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়। এই রায়ের পর বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুনঃতদন্তের আবেদন করলে সিআইডিকে মামলাটির বর্ধিত তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২০০৭ সালে গ্রেপ্তার হওয়া হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নান ১৯ নভেম্বর আদালতে উদীচী বোমা হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।[3] তাঁর স্বীকারোক্তির পর পুলিশ হরকাতুল জিহাদের আরো দুই সদস্যকে আটক করে।

২০০৯ সালে সরকার নিম্ন আদালতের রায়ের (২০০৬ সালের রায়) বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে। ২০১১ সালের ৪ মে সরকারের দায়ের করা আপিলটি বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া ও কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গ্রহণ করেন ও খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পুনরায় আত্মসমর্পণের জন্য সমন জারির নির্দেশ দেন। ২০১১ সালের ২০ জুন এ–সংক্রান্ত একটি আদেশ যশোর বিচারিক হাকিম আদালতে পৌঁছালে, ২১ জুন মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত খালাসপ্রাপ্ত ২৩ আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। এর মধ্যে তিন আসামি মহিউদ্দিন আলমগীর, আহসান কবীর হাসান ও মিজানুর রহমান মিজানের মৃত্যু হওয়ায় ২০ জন বাকি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৭ জন বিভিন্ন সময়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।

আসামিদের মধ্যে শফিকুল ইসলাম মিন্টা, শরিফুল ইসলাম লিটু ও সোহরাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করায় তাঁদের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ২৪ জুলাই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। ২০১২ সালে ফেব্রুয়ারিতে এই মামলার আসামি সাইফুল ইসলাম খুন হন। একই মাসে শফিকুল ইসলাম মিন্টা আটক হন ও পরে তিনি জামিন লাভ করেন।

বর্তমানে জীবিত সকল আসামি জামিনে মুক্ত আছেন।

তথ্যসূত্র

This article is issued from Wikipedia. The text is licensed under Creative Commons - Attribution - Sharealike. Additional terms may apply for the media files.