ইন্টারনেট অব থিংস

ইন্টারনেট অব থিংস কে সংক্ষেপে আইওটি বলে, যার বাংলা অর্থ হল বিভিন্ন জিনিসপত্রের সাথে ইন্টারনেটের সংযোগ।

চিত্র যেটি আইওটিকে প্রতিনিধিত্ব করছে

বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্র বা জিনিসপত্রকে অটোমেটিক করার জ‍ন‍্য এসবের সাথে কম্পিউটার সিস্টেম সংযুক্ত থাকে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় কাপড় ধোয়ার মেশিন। কাপড়ের পরিমান এবং ওজন বিভিন্ন ধরনের সেন্সর ব্যবহার করে পর্যবেক্ষণ করে কাপড় ধোয়ার কাজটি অটোমেটিক ভাবে করার জন‍্য এই মেশিনের সাথে কম্পিউটার সিস্টেম সংযুক্ত থাকে, যাকে আমরা এমবেডেড সিস্টেম(Embedded System) বলি।

জিনিসপত্রের এই কম্পিউটার সিস্টেমের সাথে ইন্টারনেটের সংযোগ দেয়ার মাধ্যমে আমরা তাকে বলছি ইন্টারনেট সংযোজিত জিনিসপত্র বা ইন্টারনেট অব থিংস। এই প্রযুক্তিতে আমাদের ঘরের বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি যেমন টিভি, ফ্রিজ, লাইট এগুলো ইন্টারনেট এর সাথে সংযুক্ত থাকে এবং নেটওয়ার্কের এর সাথে সংযুক্ত থাকার কারনে এগুলো দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করা যায়।[1]

নিকটবর্তী ভবিষ্যতে 200 বিলিয়ন ডিভাইসের সাথে যুক্ত হওয়ার অনুমান রয়েছে। বাজারের মূল্য 80 বিলিয়ন ডলারে অনুমান করা হয়।[2]

নামকরণ ও ইতিহাস

ইন্টারনেট অব থিংস পরিভাষাটির প্রচলন শুরু হয় ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অটো-আইটি সেন্টারের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী পরিচালক কেভিন অ্যাশটনের মাধ্যমে। ১৯৯৯ সালে পি অ্যান্ড জি কোম্পানির একটি প্রজেক্টে কাজ করার সময় কেভিন ইন্টারনেট অব থিংস পরিভাষাটি ব্যবহার করেন।[3]

আইওটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

আইওটি এখন শুধুমাত্র ডাটা সংগ্রহ করে সার্ভারে প্রদান করছে, কিন্তু আমরা এখন দ্বিতীয় ধাপে দেখতে পাচ্ছি যেখানে আমরা এই সেন্সর গুলো থেকে লব্ধ তথ্য গুলিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এর মাধ্যমে এটাকে যাচাই করে দেখতে পারবো। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্যাটার্ন গুলোকে পর্যবেক্ষন করে দেখবে এখানে কোন এলার্ট বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে কিনা।[4]

আইওটিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা

বিশ্বব্যাপী আইঅটি এখন একটি বড় ও সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি। তাই বাংলাদেশের সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এর গুরুত্ব অনুধাবন করে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে আইওটির বিভিন্ন প্রকল্পসহ মিরপুরে আইওটি ল্যাব নির্মাণের জন্য অনুদান দিয়েছে।[5] সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডাটা-সফট বাংলাদেশ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আইওটি নিয়ে বড় ধরনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে।[6] সুইডেনের নেটওয়ার্ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এরিকসন বাংলাদেশের জন্য ‘ইন্টারনেট অব থিংস’ নামের একটি পোর্টাল চালু করেছে।[7]

আইওটি যেভাবে কাজ করে

আইওটির বিভিন্ন ব্যবহার

তথ্যসূত্র

  1. "ইন্টারনেট অব থিংস (IoT) কি? :: ইন্টারনেট অব থিংস (IoT) [পর্ব-১] – কিউরিয়াস সেভেন" (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৭-১০-০৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-১০-০৮
  2. "হোম স্মার্ট হোম: জিনিস ইন্টারনেট ইন্টারনেটে"Toptal। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০২-০১
  3. "Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-১০-০৮
  4. "সাক্ষাৎকার : শাহ আহমেদ রাজা : আইওটির মাধ্যমে স্কুল বাসের অবস্থান জানা - বিজ্ঞানী.অর্গ"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-১০-০৮
  5. BanglaNews24.com। "ইন্টারনেট অব থিংস এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্প"banglanews24.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-১০-০৮
  6. "৩০ আইওটি এক্সপার্ট বিশ্ববাজারের জন্য প্রস্তুত | banglatribune.com"Bangla Tribune। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-১০-০৮
  7. "'ইন্টারনেট অব থিংস' পোর্টাল চালু করেছে এরিকসন"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-১০-০৮

বহিঃসংযোগ

This article is issued from Wikipedia. The text is licensed under Creative Commons - Attribution - Sharealike. Additional terms may apply for the media files.