আবদুল খালেক (শিক্ষাবিদ)

আবদুল খালেক (ইংরেজি: Professor Dr. Abdul Khaleque) (জন্ম: আগস্ট ১৯, ১৯৩৭, বাংলাদেশী) শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কলামনিস্ট ও রাজনীতিবিদ। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ছিলেন।[1] সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরে করতোয়া কলেজ নামে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। রাজশাহীর নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির তিনি প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য।[2] বর্তমানে দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ড. আবদুল খালেক
জন্মআগস্ট ১৯, ১৯৩৭
জাতীয়তাবাংলাদেশী
নাগরিকত্ববাংলাদেশ
পেশাঅধ্যাপনা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজনীতি
উপাধিরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
স্থিতিকাল১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭ - ০৩ আগস্ট, ১৯৯৯
দাম্পত্য সঙ্গীরাশেদা খালেক
সন্তানশাওন, নিক্কন, শুভ, গুঞ্জন

শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা

ক) প্রভাষক, বাংলা বিভাগ, সরকারী এডওয়ার্ড কলেজ, পাবনা, ১৯৬২-১৯৬৪; খ) প্রভাষক, বাংলা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৬৪-১৯৭২; গ) সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৭২-১৯৮৩; ঘ) সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৮৩-১৯৮৯; ঙ) প্রফেসর, বাংলা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৮৯-২০০২।

প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন

ক) উপাচার্য, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী ২০১৩ থেকে অদ্যাবধি; খ) উপাচার্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ৩-১২-৯৭ থেকে ৪-৮-৯৯; গ) উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ১৭-২-৯৭ থেকে ২-১২-৯৭; ঘ) উপ-উপাচার্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ৭-১০-৯৬ থেকে ১৬-২-৯৭; ঙ) ডীন, কলা অনুষদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ২১-১-৯৫ থেকে ৬-১০-৯৬; চ) সভাপতি, বাংলা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৮৬-১৯৮৯; ছ) হাউস টিউটর, শেরে বাংলা হল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭২-১৯৭৫; জ) ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৬৯-১৯৭০; ঝ) সহকারী প্রক্টর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৬৭-১৯৬৯; ঞ) সদস্য, পরিচালনা পরিষদ/সিন্ডিকেট, বিআইটি/ রুয়েট, রাজশাহী-১৯৯৭-২০০১; ট) সদস্য, শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিশন ১৯৯৭-১৯৯৮; ঠ) সদস্য, জাতীয় বেতন কমিশন ১৯৮৪-১৯৮৫; ড) সদস্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ১৯৮৩-১৯৮৯; ঢ) সদস্য, কার্যনির্বাহী পরিষদ, বাংলা একাডেমী ১৯৮৬-১৯৮৮; ণ) সদস্য, এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ ১৯৯৮-২০০০; ত) উপাচার্য, কুইন্স ইউনিভার্সিটি, ঢাকা ২০০৯-২০১১।

প্রকাশিত গ্রন্থাবলী

১. পদ্মা থেকে ইয়াংসি (ভ্রমণ কথা): নওরোজ কিতাবিস্তান: ঢাকা ১৯৬৯; ২. কাজী ইমদাদুল হক (জীবনী): কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা ১৯৭০; ৩. মধ্যযুগের বাংলা কাব্যে লোক-উপাদান, বাংলা একাডেমী, ঢাকা ১৯৮৪; ৪. মৈমনসিংহ গীতিকা: জীবন ও শিল্প, বিশ্ব সাহিত্য ভবন, ঢাকা ২০০৩; ৫. অন্ধকার যুগ ও মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যচর্চা, হাক্কানী পাবলিশাস, ঢাকা, ২০০৪; ৬. প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে লোক জীবনের স্বরূপ, হাক্কানী পাবলিশার্স, ঢাকা, ২০০৪; ৭. বাংলাদেশে ফোকলোর চর্চা, জোনাকী পাবলিশার্স, ঢাকা ২০০৪; ৮. মযহারুল ইসলাম: জীবন ও সাহিত্য, বাংলা একাডেমী, ঢাকা, ২০১০; ১০. ড. মযহারুল ইসলাম (সপ্ততিতম জন্মজয়ন্তী সংবর্ধনা গ্রন্থ), ফোকলোর গবেষণা সংসদ, রাজশাহী, ১৯৯৮; ১১. মৃত্যুঞ্জয় মযহারুল ইসলাম (সম্পাদিত গ্রন্থ), ফোকলোর গবেষণা সংসদ, রাজশাহী, ২০০৫; ১২. ময়মনসিংহ গীতিকা: পাঠ পরিক্রমা, ফোকলোর গবেষণা সংসদ. রাজশাহী ২০০৮; ১৩. শহীদ ড. জোহা এবং আমি, ধানসিঁড়ি সাহিত্য পরিষদ, রাজশাহী, ২০০৯; ১৪. বঙ্গবন্ধুর উদারতা এবং উত্তরাধিকার, হাক্কানী পাবলিশার্স, ২০০৯; ১৫. মধ্যযুগের বাংলাকাব্যে লোককথা, ফোকলোর গবেষণা সংসদ, রাজশাহী, ২০১১; ১৬. মধ্যযুগের বাংলাকাব্যে বন্দনা এবং ভণিতা, ফোকলোর গবেষণা সংসদ, রাজশাহী, ২০১২; ১৭. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বধ্যভূমি, ধানসিঁড়ি সাহিত্য পরিষদ, রাজশাহী, ২০১২; ১৮. শহিদ শামসুজ্জোহা, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, ২০১৪; ১৯. শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্বসাহিত্য ভবন, ঢাকা, ২০১৫; ২০. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী ও বধ্যভূমি, আগামী প্রকাশনী, ঢাকা, অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৬; ২১. বিব্রত সংলাপ, বিশ্বসাহিত্য ভবন, ঢাকা, ২০১৭; ২২. মাইকেল মধুসূদন দত্ত : মাদ্রাজ জীবনের ইতিবৃত্ত (প্রকাশিতব্য), হাক্কানী পাবলিশার্স, ঢাকা।

শিক্ষাবিদ হিসাবে

বুদ্ধিতে বৃহস্পতি ড. খালেক একজন যশস্বী শিক্ষাবিদ। তিনি চতুর্ভাষিক; তিনি বাংলা, ইংরেজি, সংস্কৃতচীনা ভাষায় পারদর্শী; এই সুবাদে তিনি চারটি সাহিত্যে বুৎপত্তি অর্জনকারী। তিনটি সাহিত্যের সাথে বাংলা সাহিত্য আনুকূল্যে তুলনীয়। চার সাহিত্য জানার ফলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে উচ্চমানের পাঠদান তার পক্ষে সহজ হয়। তিনি প্রথমে পাবনা এ্যাডওয়ার্ড কলেজের বাংলার প্রভাষক দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পরপর সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও প্রফেসর ছিলেন।

চীনে লেখাপড়া

গণচীন সরকারের স্কলারশিপে ড. খালেক ১৯৬৫ সালে চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে তার পিএইচ.ডি. ডিগ্রি করার কথা ছিল। কিন্তু একটি ডিপ্লোমা নিয়ে তাকে দেশে প্রত্যাবর্তন করতে হয়। ১৯৬৬ সালে চীনে সাংস্কৃতিক বিপ্লব আরম্ভ হয়। এটা বেশ কয়েক বছর ধরে চলে। এই সময়ের মধ্যে চীনে মাও-এর সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির অধীনে অনেকে ধনী হয়। ধনীদেরকে সাধারণ মানুষের আর্থিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই সাংস্কৃতিক বিপ্লব। উদাহরণত ধনীদেরকে রিকসা চালকের মত নিম্নশ্রেণীর কাজ করতে বাধ্য করা হয়। সাংস্কৃতিক বিপ্লব কর্তৃক সৃষ্ট অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে ড. খালেককে ডিপ্লোমা দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

সম্মান ও পুরস্কার

  1. গুণীজন সংবর্ধনা-১৯৯৯, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা একাডেমী।
  2. Who's who in the world 1997-এ নাম প্রকাশিত।
  3. মীর মোশাররফ হোসেন স্বর্ণপদক-২০০৫, মীর মোশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদ, কুষ্টিয়া।
  4. স্মৃতি স্মারক-২০১০ (পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম.এ. ওয়াজেদ মিয়ার ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে), ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইন্সটিটিউট, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
  5. রবীন্দ্র মেলা সম্মাননা স্মারক-২০১৫, জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, সিরাজগঞ্জ শাখা।
  6. আজীবন সম্মাননা, বাংলা বিভাগ অ্যালামনাই, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ২৭ জানুয়ারি ২০১৭।
  7. বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ‘সম্মাননা স্মারক-২০১৭’, বাংলা বিভাগ অ্যালামনাই, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ০৮-০৯ এপ্রিল ২০১৭।
  8. ফোকলোর গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য ‘ড. আসাদুজ্জামান সাহিত্য পদক’, ২৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও সাহিত্য সম্মেলন-২০১৭, দৃষ্টি সাহিত্য সংসদ, রাজশাহী।
  9. জোহরা-শামসুন্নাহার সাহিত্য গবেষণা পুরস্কার, ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ২০১৭।
  10. ড. আসাদুজ্জামান সাহিত্য পদক (ফোকলোর গবেষণায়), দৃষ্টি সাহিত্য সংসদ এর ২৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও সাহিত্য সম্মেলন-২০১৭।

তথ্যসূত্র

বহিঃসংযোগ

This article is issued from Wikipedia. The text is licensed under Creative Commons - Attribution - Sharealike. Additional terms may apply for the media files.